নিজেকে হ্যাসপিলের আন্টি পরিচয় দেওয়া মারজোরি সাইন নামের এক নারী ‘নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন,
বাংলাদেশের রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম পাঠাওয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী টাইরেস ডেঁভো হ্যাসপিলকে শৈশব ও কৈশোরে আত্মীয়দের বাড়ি এবং আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যেই ঘোরাঘুরি করে কাটাতে হয়েছে। নানা সমস্যা ও সংকট কাটাতে হয়েছে তাঁকে। হ্যাসপিল ছোট থাকার সময়ই মানসিক সমস্যার কারণে তাঁর মাকে পাগলা গারদে থাকতে হয়েছে।
গ্রেপ্তার হ্যাসপিল এখনো নৃশংস এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খোলেননি। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের কোনো অগ্রগতির কথাও নিউইয়র্ক পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। এর মধ্যেই মারজোরি সাইন নামের হ্যাসপিলের এই নিকাটাত্মীয় হ্যাসপিলকে নিয়ে মুখ খুললেন।
৫২ বছর বয়সী মারজোরি সাইন বলেন, হ্যাসপিল শান্ত ছেলে ছিলেন। কোনো সময় বিরক্তিকর হলেও কখনো তাঁর মধ্যে সহিংসতা দেখা যায়নি। তাঁর শৈশব মোটেও সুখকর ছিল না। তাঁকে আত্মীয়দের ঘর ও আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যেই ঘোরাঘুরি করতে হয়েছে। তিনি মনে করেন, হ্যাসপিল সম্পর্কে পুলিশ কোনো ভুল করছে।
মারজোরি সাইন জানিয়েছেন, হ্যাসপিল যখন ছোট, তখন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে তাঁর মাকে পাগলা গারদে যেতে হয়েছে। তখন ভ্যালি স্ট্রিম এলাকায় হ্যাসপিল তাঁর নানির আশ্রয়ে ছিলেন। তাঁর ১২ বছর বয়সে নানিও মারা যান। এর পরই মারজোরি সাইনের কাছে হ্যাসপিলের আশ্রয় হয়। কিন্তু দিনে দিনে অবাধ্য হয়ে ওঠেন হ্যাসপিল। এ কারণে ১৭ বছর বয়সে মারজোরি তাঁকে একটি ফোস্টার (পালিত) কেয়ার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে দেন। এ নিয়ে মারজোরি আদালতেও গিয়েছিলেন। আদালতকে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি আর হ্যাসপিলকে লালনপালন করতে পারছেন না। তখনই হ্যাসপিলের সঙ্গে আদালতে তাঁর শেষ দেখা হয়। এর পরের বছর হ্যাসপিলের বাবাও মারা যান। সর্বশেষ হ্যাসপিল ব্রুকলিনের প্রস্পেক্ট পার্ক এলাকায় বসবাস করতেন।
ফাহিম সালেহ হত্যাকাণ্ডের পর এবং গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত হ্যাসপিলকে নিজের মতোই চলাফেরা করতে দেখা গেছে। গ্রেপ্তার হওয়ার আগেও তিনি পার্টি বেলুন কিনেছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর নিউইয়র্ক পুলিশের একজন কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, এই লোকটি (হ্যাসপিল) আমেরিকার নতুন ধরনের সাইকো।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল