গাজীপুরে নির্মাণের ২০ বছরেও চালু হয়নি বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য অফিস
গাজীপুরে নির্মাণের ২০ বছরেও চালু হয়নি বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য অফিস

গাজীপুরে নির্মাণের ২০ বছরেও চালু হয়নি বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য অফিস

বিডি নিউজ ৬৪: গাজীপুর মহানগরের পূর্বভূরুলীয় ২০ বছর আগে কয়েক কোটি টাকা ব্যায়ে স্থাপিত বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ঢাকা বনবিভাগীয় কার্য্যালয় এখন অপরাধী ও মাদকসেবীদের অভয়ারন্য। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কাজ গতিশীল করার জন্য ১৯৯৮ সালে কয়েক কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মাণ করা এই কার্যালয় এলাকাবাসির গলার কাটা।

গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক কিলোমিটার উত্তরে প্রায় ৫ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত এই কার্যালয়ে না বসে বন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা অফিস ও বসবাস করেন ঢাকায়।

গাজীপুর অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য, বন ও বন্যপ্রাণী, সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা জোরদার করতে নির্মাণ করা হয় বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য কার্যালয়। এখানে আছে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার জন্য নির্মিত একটি অফিস কক্ষ ও একটি ডাকবাংলো সহ ৬ টি ভবন। তবে গাজীপুরের বন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র রক্ষার কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তার বসবাস ও অফিস করেন ঢাকায়। অথচ বনরাক্ষসদের কবলে পরে প্রতিদিনই ধ্বংস ও দখল হচ্ছে গাজীপুরের বনভূমি। কমে যাচ্ছে বনভূমির আয়োতন। এদিকে কার্যালয়ের ফাকা-নির্জন ভবন ও বনাঞ্চল ঘিরে ছিনতাই, চুরি ও মাদকসহ এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড সংঘঠিত হচ্ছে।

গাজীপুর মহানগরের ২৫ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ঢাকা বনবিভাগীয় কার্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় পাঁচ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত এই কার্যালয়ের ভবনগুলোর জীর্ণদশা। এখানে রয়েছে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়, সহকারী বনসংরক্ষকের কার্যালয়, রেঞ্জকর্মকর্তার কার্যালয়, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তার ডাকবাংলোসহ ৬ ভবন। প্রায় ভঙ্গুর ভবনগুলোর জানালা-দরজা নাই বললেই চলে। প্রশাসনিক মূল ভবনের পিছনের দিকে দেয়াল ভাঙ্গা ।

প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের দরজা – জানালা একটিও নেই, টিনের চাল নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যান্য ভবনগুলোর দেয়ালে ফাটল ধরেছে। কার্যালয়ের ফটকে অপেক্ষাকৃত নতুন একটি সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কের অস্থায়ী কর্যালয়। তবে এখানে কোন কর্মকর্তা নেই । কার্যালয়ের বিশাল এলাকায় ভবনগুলো পাহারার কাজে নিয়োজিত একমাত্র নিরাপত্তাকর্মী আনোয়ার হোসেন ভোরের দর্পণকে জানান, প্রায় দেড় বছর যাবৎ তিনি এই অফিসের নিরাপত্তার দ্বায়িত্বে আছেন। তিনি এসে ভবন গুলো এই অবস্থায়ই দেখতে পান। তিনি দাবী করেন, বড় কর্মকর্তারা মাঝে মাঝে পরিদর্শণে আসেন। বিশাল এলাকার নিরাপত্তার দায়ীত্বে তিনি সহ পাঁচজন নিয়োজিত ছিলেন। কয়েকমাস আগে বাকি চারজনকে অন্যত্র বদলী করা হয়েছে। তিনি শুনেছেন আরো এক নিরাপত্তা কর্মীকে এখানে পোষ্টিং দেয়া হয়েছে, তবে তিনি এখনো কাজে যোগদেননী ।

বিলুপ্ত গাজীপুর পৌসভার সাবেক কাউন্সিলর (ভারপ্রাপ্ত মেয়র) ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন সরকার জানান, কার্যালয়ের এই এলাকাটি একসময় খেলার মাঠ ছিল। কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে এখানে বন বিভাগের একটি কার্যালয় স্থাপন করা হলো। নির্মাণের বিশ বছরের মধ্যে কার্যালয়ে কোন কর্মকর্তাকে অফিস করতে দেখিনি। অরক্ষিত এই ভবনগুলো এখন পরিত্যাক্ত। নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু। গাজীপুর জেলা প্রসাশনের মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে নাগরিক সকল সুবিধাসহ নির্মিত এই ভবন গুলো কেন পরিত্যাক্ত অবস্থায় পরে আছে আমার বুঝে আসেনা। তিনি আরো জানান, তিনি ভারপ্রাপ্ত মেয়র থাকাকালিন এই কার্যলয় চালুর জন্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে যোগাযোগ করেন, তবে তা কোন কাজে আসেনি। মাদকসেবী, ছিনাইকারী ও নানা অপরাধীদের আশ্রয়স্থল এই কার্যালয় এখন এলাকাবাসির জন্য গলার কাটা। দ্রুততম সময়ে তিনি কার্যালয়টি চালুর দাবী জানান।

গাজীপুর মহানগরের ২৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শওকত আলাম জানান, অফিসটি ঘিরে অপরাধীদের তৎপরতা থাকায় এলাকাবাসির সমস্যা হচ্ছে। চুরি, ছিনতাই ও অপরাধীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অফিসটি চালু হলে এলাকার নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড হ্রাস পাবে। আর কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মীত এই সরকারী সম্পদও রাক্ষা পাবে।

কার্যালয়ের ফাকা-নির্জণ ভবন ও বনাঞ্চল ঘিরে ছিনতাই, চুরি ও মাদকসহ এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড সংঘঠিত হচ্ছে। বন্যপ্রানী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জহিরউদ্দিন আকন্দ জানান, এটি একটি সাধারণ অভিযোগ, অপরাধীরা সবসময়ই সুযোগ খোঁজে। অফিসটি কি কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে । দ্রুতই আফিসটি চালু করা যাবে বলে তিনি আশা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *