বিডি নিউজ ৬৪: অনিয়ন্ত্রিত আবেগ, মনোযোগের অভাব এবং অ্যালার্জি- মধ্যবয়সে এসব সমস্যার অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে আপনার অলস পেট। সেই প্রাচীনকাল থেকে অভিজ্ঞনদের মুখে চলে আসছে, সকল রোগের শুরুটা পেট থেকেই হয়।
হয়তো সব রোগ নয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্রনিক মেটাবলিক রোগের শুরুটা কিন্তু আপনার পেট। মানসিক চাপ, উদ্বেগ, হজমের সমস্যা, ত্বকের সমস্যা এবং ক্রমাগত সংক্রমণের কারণ পেটেই লুকিয়ে রয়েছে।
মধ্যবয়সের যুদ্ধ
দেহ যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়কে বের করে দিতে চায়। এটা অজানা কোনো বিষয় নয়। খাবার অগ্রহণযোগ্য হলে বমি হয়। এ সবই হজমের সমস্যাকে চিহ্নিত করে। অন্ত্র হলো ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের গোটা এক ইকোসিস্টেম। এর কিছু দেহের জন্য উপকারী। অন্যগুলো বিষাক্ত। পেটে যেন উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলো থাকতে পারে তার জন্য স্বাস্থ্যকের খাবার খেতে হয়। মূলত আমরা যা খাই তাই অন্ত্রে প্রভাব ফেলে। এখানেই খাবার খেতে পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে দেহ। হজম প্রক্রিয়া যদি সুষ্ঠু থাকে তবে সঠিকভাবে পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে দেহ।
পেট সুখী তো আপনি সুখী
দেহের এই উপকারী জীবাণুগুলোকে কি মস্তিষ্কে নিয়ে যাওয়া সম্ভব? বিজ্ঞান বলছে সম্ভব। পেটের সঙ্গে মস্তিষ্কের সংযোগ রয়েছে যার মাধ্যমে মানসিক বিষয়গুলো প্রভাবিত হয়। এই সংযোগো উল্টাপাল্টা কিছু ঘটলে আলঝেইমার্সের মতো সমস্যা হয়ে যায়। ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া আপনার পেটে ব্যথা ও অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। মস্তিষ্কের পর পেটই হলো দেহের দ্বিতীয় মস্তিষ্ক যার সরাসরি মনের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই সুখী থাকতে পেটের যত্ন নিতে হবে।
প্রি এবং প্রোবায়োটিক
প্রোবায়োটিক পেটে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সৃষ্টি করে। আর প্রিবায়োটিক উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য উর্বর ক্ষেত্রে প্রস্তুত করে দেয়। এ ছাড়া যেসব ভালো ব্যাকটেরিয়া ইতিমধ্যে রয়েছে তারও দেখাশোনা করে প্রিবায়োটিক। উচ্চ ফাইবারসমৃদ্ধ প্রতিদিনের খাবার থেকে প্রিবায়োটিক সংগ্রহ সম্ভব। কলা, পালং শাক, শসা, গাজর, টমেটো, রসুন এবং পেঁয়াজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রিবায়োটিক। আর প্রোবায়োটিকের জন্য দই, বাটারমিল্ক এবং টফুর মতো খাবারে ভরসা আনুন। পুদিনা পাতা, লেবু, আদা, হলুদ এবং জিরার মতো খাবার হজমে সহায়ক এনজাইম সৃষ্টিতে সহায়তা করে।
পানিপূর্ণ থাকুন
দেহের বিষাক্ত উপাদান দূর করার শক্তিশালী মাধ্যমের একটি পানি। দেহের ময়লা দূর করতে কিডনি ও কোলনকে ব্যাপকবাবে সহায়তা করে পানি। হাইড্রেশনের অর্থ পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খেতে হবে প্রতিদিন। বিশেষজ্ঞরা দিনে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করতে বলেন।
লেগে থাকুন
কয়েকটি অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং এতে লেগে থাকুন। যেমন-
১. প্রতিদিন সময়মতো খাবার খান।
২. নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
৩. খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন। পানিও খাবেন যথেষ্ট পরিমাণে।
৪. প্রতিদিনই ফল ও সবজি খাওয়ার ব্যবস্থা রাখুন।
৫. আপেল, পেয়ারা, পেঁপে, নাশপাতি ইত্যাদি ফল খাওয়ার অভ্যাস করুন।
৬. খাবার গ্রহণের সময় ছাড়াই প্রতিদিন ৩ লিটার পানি খাওয়ার চেষ্টা করুন।
৭. বেকিং, গ্রিলিং, ফ্রাইং, স্টিমিং, পোচিং, ফার্মেন্টেশন বা মাইক্রোওয়েভ পদ্ধতিতে রান্না করুন।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল