বিডি নিউজ ৬৪: নীলফামারী সদর উপজেলায় গতকাল শনিবার ২০৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা শুরু করতে না পারার কারণ জানতে চেয়ে পত্র প্রদান করা হয়েছে সদর উপজেলা প্রাথমকি শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার শরীফুল ইসলামকে। আজ রবিবার সকালে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দিলীপ কুমার বণিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব চেয়ে ওই কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার প্রেরিত ওই নোটিশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার হাতে পৌঁছানোর কথা নিশ্চিত করেছেন সদর উপজেলা প্রথমিক শিক্ষা দপ্তর।এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দিলীপ কুমার বণিক রবিবার বিকেলে বলেন, নির্দিষ্ট দিনে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু করতে না পারার কারণ জানতে চেয়ে সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার শরীফুল ইসলামকে সকালে ২৪ ঘণ্টার সময় দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়। সেটির জবাব এখনো পাইনি। জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার শরীফুল ইসলাম নোটিশ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করেন। জবাব দিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সেটি আমার এখতিয়ার, আপনাকে বলবো কেন ? তবে কর্তৃপক্ষকে জবাব না দিয়ে কোন উপায় আছে কি ?’ সারা দেশের অনেক স্থানে এমন পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। কিন্তু এখানে হৈ-চৈ ফেলেছেন আপনারা। ’
তিনি উল্লেখ করে বলেন, প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ছাপানোর কাজ শেষ না হওয়ার কারণে সময়ের মধ্যে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। জেলা কর্মকর্তাকে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়ার কারণ মৌখিক ভাবে জানিয়েছি। শনিবারের পরীক্ষা স্থগিত করে আগামী ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রবিবার পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী সকল শ্রেণির বাংলা বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সেগুলো বলেতো এখন আর লাভ নেই।
উল্লেখ্য, গত শনিবার থেকে ভিন্ন প্রশ্নে জেলার ছয় উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা (প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণী) শুরু হওয়ার কথা। ওই সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১০ ডিসেম্বর থেকে ১৮ সিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের রুটিন প্রদান করা হয় শিশু শিক্ষার্থীদের। সে অনুযায়ী জেলার পাঁচ উপজেলায় গতকাল শনিবার প্রথম দিনে সকল শ্রেণির গণিত বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও সদর উপজেলায় প্রশ্নপত্র চাপা ও সরবরাহ না হওয়ায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি উপজেলার ২০৭টি প্রাথমিক বিদ্যলয়ে। ফলে পরীক্ষা দিতে এসে ওই ২০৭ বিদ্যালয়ের ৩৮ হাজার ৭২৪ জন শিশু শিক্ষার্থী বিলম্বের শিকার হয়।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল