ফরিদপুরে কাল ১২ শহীদের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী
ফরিদপুরে কাল ১২ শহীদের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী

ফরিদপুরে কাল ১২ শহীদের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী

বিডি নিউজ ৬৪: আগামীকাল ৯ ডিসেম্বর ফরিদপুরের ১২ শহীদের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের করিমপুরে হানাদার পাকিস্তানি  বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখযুদ্ধ হয়।

যুদ্ধে সাত মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তার অভিযোগে হানাদার বাহিনীর সদস্যরা গ্রামের বাসিন্দাকে গুলি করে হত্যা করে।সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে যুদ্ধে অংশ নেওয়া যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হেমায়েতউদ্দিন তালুকদার জানান, একাত্তরের ৬ ডিসেম্বর বিনাযুদ্ধে যশোরের পতন হলে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্যরা পিছু হটে ফরিদপুরের দিকে আসতে থাকে। খবর পেয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে ৪০ জন মুক্তিযোদ্ধা নতিবপুর ক্যাম্প থেকে করিমপুর সেতু এলাকায় অবস্থান নিয়ে শক্রসেনাদের অপেক্ষায় থাকে। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ফরিদপুরের করিমপুর এলাকায় ঢাকাগামী পাকসেনাদের বহরের একটি জিপে ৯ ডিসেম্বর সকাল ১১টার দিকে সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় মুক্তিযোদ্ধারা জিপটির ওপর গ্রেনেড চার্জ করে। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উপস্থিত হয় হানাদার বাহিনীর একটি বড় বহর। শুরু হয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে শক্র সেনাদের তুমুল যুদ্ধ। খবর পেয়ে আশেপাশের ক্যাম্পের মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধে অংশ নেন। টানা বিকেল পর্যন্ত যুদ্ধে ছয় মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

শেষ পর্যন্ত বিকেল ৫টার দিকে মুক্তিযোদ্ধাদের গুলি ফুরিয়ে গেলে তারা পাশের ধোপাডাঙ্গা-চাঁদপুর গ্রামে আশ্রয় নেয়। যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সালাউদ্দিন শক্র সেনাদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে পাশের এক বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় হানাদার বাহিনীর সদস্যরা পুরো গ্রাম ঘিরে ফেলে। আহত সালাউদ্দিন যে বাড়িতে আশ্রয় নেন হানাদাররা সে বাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেখানে পুড়ে শহীদ হন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী সালাউদ্দিন।
করিমপুর যুদ্ধে শহীদরা হলেন মুক্তিযোদ্ধা কাজী সালাউদ্দিন আহমেদ, মেজবাহউদ্দিন নৌফেল, আব্দুল ওয়াহাব, সোহরাব হোসেন, আব্দুল আউয়াল, আব্দুল হামিদ এবং মজিবুর রহমান। আর গ্রামবাসীর মধ্যে শহীদ হন তিন সহোদর বাকেলউদ্দীন মণ্ডল, হযরতউদ্দিন আলী মণ্ডল এবং হাছেন আলী মণ্ডল, ফেলু শেখ এবং আদিলউদ্দিন শেখ ওরফে আবু খাঁ।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মু. আবুল ফয়েজ শাহনেওয়াজ জানান, ওই যুদ্ধে শহীদদের স্মরণে কাল শুক্রবার নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। সকাল ৯টায় শহরের আলীপুর কবরস্থানে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবরে পুস্পমাল্য অর্পণ ও কবর জিয়ারত করা হবে। এ ছাড়া কবরস্থান জামে মসজিদে কোরানখানি, মিলাদ এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *