নীলফামারীর অপহৃত সালমাকে উদ্ধারের দাবিতে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন
নীলফামারীর অপহৃত সালমাকে উদ্ধারের দাবিতে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

নীলফামারীর অপহৃত সালমাকে উদ্ধারের দাবিতে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

বিডি নিউজ ৬৪: নীলফামারীর জলঢাকায় অপহরণের শিকার এসএসসি পরীক্ষার্থী উম্মে সালমাকে উদ্ধারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবারের সদস্যরা। আজ বুধবার দুপুরে উপজেলার মীরগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব শিমুলবাড়ি গ্রামের নিজ বাড়ির উঠানে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তার ( উম্মে সালমা) বাবা ফজলুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সালমার বাবা ফজলুল হক, মা রোজিনা আক্তার, বড় আব্বা (জ্যাঠা) মোজাম্মেল হক, বড় আম্মা সুলতানা নাসিরা, নানা বজিয়ার রহমান, নানী আঞ্জুয়ারা বেগমসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে সালমার বাবা ফজলুল হক অভিযোগ করে বলেন, উম্মে সালমা মীরগঞ্জ হাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী। গত ২০ সেপ্টেম্বর উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের পশ্চিম খুটামারা গ্রামে আমার মেয়ে তার নানার বাড়িতে বেড়াতে গেলে সেখান থেকে গত ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় উম্মে সালমাকে বাড়ির উঠানে একা পেয়ে তাকে অপহরণ করে পূর্ব শিমুলবাড়ি গ্রামের আলাজ উদ্দিনের ছেলে আনছারুল হক। সে সময় তার খালাতো ভাই বাবু ও হাচানের সহযোগিতায় মোটরসাইকেলে তাকে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর জলঢাকা থানায় অভিযোগ দাখিল করতে গেলে থানা পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত না করে তদন্ত করবেন বলে জানায়। এর পর গত ১ অক্টোবর অপহরণকারীরা মীরগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুকুম আলীর বাড়িতে উম্মে সালমাকে দিয়ে গেলে চেয়ারম্যান সাহেব তাকে থানায় সোপর্দ করেন। ওই রাতে পুলিশ আমার দেওয়া অভিযোগটি রেকর্ড করে আমার মেয়েকে উদ্ধার দেখায়। এরপর আদালতের মাধ্যমে আমি আমার মেয়েকে জিম্মায় নেই।

তিনি বলেন,‘মেয়েকে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করানোর জন্য গত ১০ নভেম্বর মীরগঞ্জ হাট উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করাই। ওই অপহরণকারীদের ভয়ে মেয়েকে নিজ বাড়িতে না রেখে জলঢাকা পৌর এলাকার রাজারহাট এলাকায় তার মামার বাড়িতে পাঠাই। সেখান থেকে সালমাকে গত ১৮ নভেম্বর মাইক্রোবাসযোগে পুনরায় অপহরণ করেন আনছারুল।

সম্মেলনে সালমার নানা বজিয়ার রহমান বলেন, গত ১৮ নভেম্বর সালমা আবারও অপহরণের শিকার হলে পরদিন ১৯ নভেম্বর সকাল ১১টার দিকে আমরা জলঢাকা থানায় গিয়ে অভিযোগ করলে থানার ওসি মো. মোস্তাফিজার রহমান আমাদের সঙ্গে অসদাচরণ করে বলেন, ‘আমি কি বারবার তোমার মামলা নিব ?’  অবশেষে সেখান থেকে ফিরে সালমার বাবা ফজলুল হক বাদী হয়ে ২১ নভেম্বর নীলফামারী নারী শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত তদন্ত পূর্বক ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন জলঢাকা থানা পুলিশকে। এর পর আমরা থানায় যোগাযোগ করলে ওসি সাহেব বলেন, আদালত থেকে এমন কোনো কাগজ আমি পাইনি। এ অবস্থায় মনে হচ্ছে পুলিশ পক্ষ অবলম্বন করছেন। নিরুপায় হয়ে আমরা আজ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছি।

এ ব্যাপারে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘উম্মে সালমা অপহরণ ঘটনায় দায়ের করা মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মেয়েটিকে উদ্ধার করে আদালতের মাধ্যমে তার বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আবারও অপহরণের ঘটনা ঘটলে তারা আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশের বিরুদ্ধে উম্মে সালমার পরিবারের করা অভিযোগ সত্য না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *