ক্রিকেট টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়ে স্বাগতিক দলের হামলা, শিক্ষকসহ আহত ১৯
ক্রিকেট টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়ে স্বাগতিক দলের হামলা, শিক্ষকসহ আহত ১৯

ক্রিকেট টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়ে স্বাগতিক দলের হামলা, শিক্ষকসহ আহত ১৯

বিডি নিউজ ৬৪: আন্ত:কলেজ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়ে স্বাগতিক দলের হামলায় শেরপুর সরকারি কলেজের শিক্ষক-খেলোয়াড়সহ ১৯ জন আহত হয়েছেন। গতকাল রবিবার টাঙ্গাইলের কাগমারী এম এম আলী সরকারি কলেজ মাঠে আঞ্চলিক পর্যায়ের ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা শেষে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আজ সোমবার বিকেলে শেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ কে এম. রিয়াজুল হাসান আহত শিক্ষক ও খেলোয়াড়দের কয়েকজনকে গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে উপস্থাপন করে বিষয়টি ন্যাক্কারজনক উল্লেখ করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানান। এ ছাড়াও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নাজিমুল হক নাজিম এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন। তা ছাড়াও এ ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীদের বিচার দাবিতে আগামীকাল মঙ্গলবার কলেজ ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে শেরপুর সরকারী কলেজের শিক্ষার্থীরা।জানা গেছে, আহতদের মধ্যে দুই খেলোয়াড়কে গুরুতর অবস্থায় টাঙ্গাইল কুমুদিনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরা হচ্ছেন- মেহেদী হাসান রুমান (১৭) ও জাকির হোসেন (১৭)। এ ছাড়াও শরীরচর্চা শিক্ষক মঞ্জুরুল হক (৪০), শিক্ষার্থী মারুফ রহমান শাকিল (১৭), ফাহিম ফয়সাল প্রান্ত (১৭), আব্দুল্লাহ আল হাসান (১৬), নাজমুল হাসান (১৬)সহ অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও তাদের গায়ের বিভিন্ন স্থানে কাটা ক্ষত ও হাড়ভাঙ্গা জখম রয়েছে।

কলেজ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আয়োজিত আঞ্চলিক পর্যায়ের ক্রিকেট টুর্নামেন্টে গতকাল রবিবার বিকেলে শেরপুর সরকারি কলেজ ও টাঙ্গাইলের কাগমারী এম এম আলী সরকারি কলেজের মধ্যে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় এম এম সরকারি কলেজ প্রথমে ব্যাট করে ১১২ রান সংগ্রহ করলে শেরপুর সরকারি কলেজ নির্ধারিত ওভারে ১১২ রান তুলে। এতে খেলাটি টাই হয়। ওই অবস্থায় শেরপুর সরকারি কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক মঞ্জুরুল হক ফাইনাল খেলার নিয়ম অনুযায়ী খেলা পরিচালনা কমিটির কাছে সুপার ওভারের দাবি জানান। কিন্তু খেলা পরিচালনা কমিটি তা না মেনে প্রথম ১০ ওভারের রান রেটের হিসেবে এমএম সরকারি কলেজকে বিজয়ী ঘোষণা করে। খেলোয়াড়দের নৈতিক দাবির মুখে শেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ কে এম. রিয়াজুল হাসান বিষয়টি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকারকে মোবাইলে অবহিত করেন। বিষয়টি জানতে পেরে কাগমারি এম এম সরকারি কলেজের খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীরা একযোগে শেরপুর সরকারি কলেজ একাদশের খেলোয়াড়-কর্মকর্তাদের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে ১৯ জন গুরুতর আহত হয়। তাদেরকে প্রথমে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় দুজনকে কুমুদিনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে শেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ কে এম. রিয়াজুল হাসান বলেন, খেলাধুলা একটি নির্মল আনন্দের বিষয়। এখানে সন্ত্রাসের কোন স্থান নেই। টাঙ্গাইলে স্বাগতিক এম এম সরকারি কলেজ দল সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে শেরপুর দলের ওপর সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালিয়েছে। ওই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে সন্ত্রাসকেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে। আর পিছিয়ে পড়বে সুষ্ঠু সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া চর্চা। এক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডকেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানোর সাথে সাথে ঘটনাটির তদন্ত ও বিচার চেয়ে অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানান। একই সাথে শেরপুর সরকারি দলকে বিজয়ী ঘোষণা করারও দাবি জানান।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *