বৃহত্তর চট্টগ্রামে পরিবহন ধর্মঘট শুরু হবে মঙ্গলবার থেকে
বৃহত্তর চট্টগ্রামে পরিবহন ধর্মঘট শুরু হবে মঙ্গলবার থেকে

বৃহত্তর চট্টগ্রামে পরিবহন ধর্মঘট শুরু হবে মঙ্গলবার থেকে

বিডি নিউজ ৬৪: নয় দফা দাবির সমর্থনে আগামী মঙ্গলবার ভোর ছয়টা থেকে বৃহত্তর চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টা পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখা। আজ শনিবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ ধর্মঘট ডাকা হয়।চট্টগ্রাম, তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজার নিয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রাম।

শ্রমিকদের নয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- চট্টগ্রামে বাস, ট্রাক ও প্রাইম মুভারের জন্য আলাদা টার্মিনাল নির্মাণ; অটোরিকশা-অটো টেম্পোর জন্য পার্কিংয়ের জায়গা নির্ধারণ; পরিবহন শ্রমিকদের নিয়োগপত্র এবং কল্যাণ তহবিলের ব্যবস্থা করা; পুলিশি হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ; ফেরি পারাপারে টোল কমানো; অনিবন্ধিত অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়া এবং মালিকের জমা ৬০০ টাকা নির্ধারণ; বিআরটিএ ও যুগ্ম শ্রম পরিচালকের দপ্তরে দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধ; শহর এলাকায় বাস, মিনিবাস ও হিউম্যানহলারের টার্গেট পদ্ধতি বাতিল ও শ্রমিক নেতা নুরুল হুদা অপহরণ মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল ইত্যাদি।

আজ শনিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন সংগঠনের নেতারা। এ সময় নয় দফা দাবি তুলে ধরেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটি গঠিত আন্দোলন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আবদুস ছবুর।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মন্ত্রীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে বহু চুক্তি ও সিদ্ধান্তের পর চট্টগ্রামের উত্তর জেলার জন্য বাস টার্মিনাল নির্মিত হয়নি। একইভাবে ট্রাক ও প্রাইম মুভার টার্মিনালও নির্মিত হয়নি। একটি স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও নগরের বিভিন্ন জায়গায় বাস, ট্রাক ও ট্যাংক লরির টার্মিনাল হচ্ছে না। দেশ স্বাধীনের ৪৫ বছর পার হয়েছে। মন্ত্রী-সাংসদ আসে, মন্ত্রী-সাংসদ যায়; কিন্তু চট্টগ্রামে টার্মিনাল হয় না।

২০১৩ সালে তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী এক সার্কুলারের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরে চার হাজার অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়ার কথা বলেছিলেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। সম্মেলনে বলা হয়, কিন্তু মালিক ও প্রশাসনের অসাধু সিন্ডিকেটের নানামুখী ষড়যন্ত্রের কারণে সেই অনিবন্ধিত অটোরিকশা চলতে পারছে না। ফলে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে গেছে।

এতে আরও বলা হয়, পরীক্ষার মাধ্যমে লাইসেন্স দেওয়া হোক। কিন্তু কম সময়ের মধ্যে লাইসেন্স নিশ্চিত করতে হবে। লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ের যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিয়ে লিখিত পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা কমাতে হবে। একই সঙ্গে বিআরটিএর দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি রুহুল আমিন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মুছা এবং কার্যকরী সভাপতি রবিউল মাওলা ও সাধারণ সম্পাদক অলি আহমদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *