বিডি নিউজ ৬৪: খাপড়া ওয়ার্ডের বন্দী সত্যরঞ্জন ভট্টাচার্যের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ।
আজ এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, পাকিস্তান আমলে রাজপথের পাশাপাশি জেলখানায়ও কমিউনিস্টরা আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। বন্দীদের ওপর নির্যাতন, কারা কর্তৃপক্ষের দুর্ব্যবহার, নি¤œমানের খাবার সরবরাহ, কারাবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুযোগ প্রদান, গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলেন কমিউনিস্ট বন্দীরা। উত্তেজিত ও বেসামাল হয়ে পাকিস্তানি সরকার কমিউনিস্ট রাজবন্দীদের ওপর দমন-পীড়নের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন সত্যরঞ্জন ভট্টাচার্যরা। ব্যক্তিস্বার্থকে তুচ্ছ করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের জন্য লড়াইয়ে সামিল হয়েছিলেন তারা।
তারা বলেন, সত্যরঞ্জন ভট্টাচার্যসহ খাপড়া ওয়ার্ডের যোদ্ধাদের বিপ্লবী ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, খাপড়া ওয়ার্ডের লড়াই গণতান্ত্রিক ও বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। খাপড়া ওয়ার্ডের লড়াইকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে হবে। সেদিনের লড়াইয়ের শিক্ষা সবখানে ছড়িয়ে দিতে হবে। খাপড়া ওয়ার্ডের লড়াই মুক্তির লড়াইয়ে আজও পথ দেখিয়ে চলেছে। সত্যরঞ্জন ভট্টাচার্যসহ খাপড়া ওয়ার্ডের বিপ্লবী যোদ্ধাদের বিপ্লবী জীবন থেকে তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
বিবৃতিতে সিপিবি’র নেতৃবৃন্দ পাঠ্যপুস্তকে খাপড়া ওয়ার্ডের লড়াইকে যুক্ত করার দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ প্রয়াত কমরেডের শোকসন্তপ্ত সহযোদ্ধা এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাপড়া ওয়ার্ডের শেষ জীবিত বন্দী কমরেড সত্যরঞ্জন ভট্টাচার্য হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গত রোববার দিবাগত রাত ১১টায় পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। ১৯৫০ সালের ২৪ এপ্রিল রাজশাহী জেলের খাপড়া ওয়ার্ডে তৎকালীন পাকিস্তানি পুলিশ গুলি চালিয়ে ৭ কমিউনিস্ট রাজবন্দীকে হত্যা করে। ওই সময় পুলিশের গুলিতে আরো ৩২ জন রাজবন্দী আহত হন।
সত্যরঞ্জন ভট্টাচার্যের মৃত্যুতে সিপিবির শোক
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল