কেরানীগঞ্জে ডিবি পরিচয়ে যুবক অপহরণ, পরে উদ্ধার
কেরানীগঞ্জে ডিবি পরিচয়ে যুবক অপহরণ, পরে উদ্ধার

কেরানীগঞ্জে ডিবি পরিচয়ে যুবক অপহরণ, পরে উদ্ধার

বিডি নিউজ ৬৪: ঢাকার কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মো. সুমন নামে (১৮) এক যুবককে অপহরণের পর আটক করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এর ১৫ ঘণ্টা পর ঢাকা জেলা (দক্ষিণ) ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের কয়েকটি দল কৌশলে মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার সময় তিন ভুয়া ডিবি পুলিশকে আটক করে। এ সময় অপহৃত সুমনকে উদ্ধার করা হয়।

আটককৃতরা হলেন মো. সজল (৩০), স্বপন (১৮) এবং সলেমান (২৫)। আজ  শনিবার বেলা ১২টার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন মডেল টাউন এলাকার আল বারাকা হাসপাতালের পেছনে অভিযান চালিয়ে সুমন নামে এক যুবককে আটক করে।

অপহৃত সুমনের বাবা মো. নিজাম মিয়া জানান, তাঁর ছেলে সুমন পোশাক কারখানার একজন কাটিং মাস্টার। তাঁর মা অসুস্থ হয়ে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। গতকাল শুক্রবার রাত ৯টার দিকে সুমন তার দাদিকে হাসপাতালে দেখার জন্য যাচ্ছিল। বাড়ি থেকে বের হয়ে পায়ে হেঁটে বেড়িবাঁধ হয়ে নৌকার ঘাটে পৌঁছালে তিন-চারজন যুবক সুমনকে ডেকে রিকশায় তুলে মডেল টাউন এলাকায় একটি বাড়িতে আটকে রাখে। এরপর অপহরণকারীরা তাঁর ছেলের মোবাইল ফোন দিয়ে তাঁকে ফোন করে ডিবি পুলিশের দারোগা সজল পরিচয় দিয়ে এক লাখ টাকা মুক্তপণ দাবি  করে। তিনি সাথে সাথে ডিবি অফিসে এসে জানতে পারেন সজল দারোগা ডিউটিতে আছেন। তিনি ডিবি অফিস থেকে সজল দারোগার নম্বর নিয়ে ফোন করলে তাঁর মোবাইল বন্ধ পান। রাতে একাধিকবার ছেলের মোবাইল থেকে তারা ফোন করে টাকা নিয়ে আসতে বলে। আজ শনিবার সকালে তিনি ফের ডিবি অফিসে গিয়ে ডিবি পুলিশের সহযোগিতায় বেলা ১২টার দিকে তাঁর ছেলেকে উদ্ধার করেন।

অপহৃত সুমন জানায়, তার দাদি অসুস্থ হয়ে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। শুক্রবার রাতে দাদিকে দেখতে হাসপাতালে যাওয়ার সময় ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে তিন-চার যুবক ডেকে এনে মডেল টাউন এলাকার একটি বাড়ির ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখে। এরপর তারা তার মোবাইল ফোন দিয়ে তার বাবাকে ফোন করে এক লাখ টাকা মুক্তপণ দাবি করে। সে বলে, “রাতে তারা আমাকে মারধর করে বলে, ‘আমরা যা বলি তুই তা বল’। তারা আমার পূর্ব পরিচিত, তারা আমার কাছে টাকা পায় বলে ধরে আমাকে নিয়ে আইছে- এ রকম কয়েকটি ভিডিও এবং আমার মুখের ভাষা রেকর্ডিং করে রাখে।”

ঢাকা জেলা দক্ষিণ গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি ওহিদুজ্জামান মোল্লা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “বুড়িগঙ্গা নদীর নাদু বেপারীর ঘাট এলাকার খেয়া নৌকার মাঝি নিজাম মিয়া আমার কাছে জানান, ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে শুক্রবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে তার ছেলে সুমনকে আটক করে মুক্তিপণ দাবি করছে। অপহরণকারীরা মুক্তিপণের টাকা মডেল থানাধীন আল বারাকা হাসপাতালের সামনে নিয়ে যেতে বলছে। তখন আমি কৌশল অবলম্বন করে কয়েকটি টিম সেখানে পাঠাই। পাশাপাশি ভিকটিমের বাবাকেও টাকা দিয়ে পাঠাই। সেখানে আটককৃত স্বপন ও সলেমান টাকা নিতে আসলে সাথে সাথে তাদেরকে আটক করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক মডেল টাউন সামসু মিয়ার বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে ভিকটিম উদ্ধারসহ অপহরণকারীর মূল হোতা সজল ওরফে ডিবি দারোগা সজলকে আটক করে জেলা ডিবি (দক্ষিণ) এর কেরানীগঞ্জের কদমতরীতে অবস্থিত কার্যালয়ে নিয়ে ‌আসা হয়েছে। ঢাকা জেলা দক্ষিণ গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পুলিশের এসআই) বিপুল চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে এএসআই সজল মাহমুদ ও এএসআই কে এম রিয়াজুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করে।

ওহিদুজ্জামান মোল্লা আরো বলেন, “আটককৃতদের মধ্যে সজল নামের ওই যুবক নিজেকে জেলা ডিবির এএসআই সজল মাহমুদের পরিচয় দিয়েছিল। ইতিপূর্বেও সে একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *