বিডি নিউজ ৬৪: কলকাতা শহরের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক ওতপ্রোত। রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্পই হোক বা তপন সিংহর সিনেমা- আফগান কাবুলিওয়ালাদের কবেই আপন করে নিয়েছে শহরটি। পুরানো কলকাতার রাস্তাঘাট, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত দেখা যায় তাঁদের। সকলেই জানেন, দরকারে, অদরকারে টাকা পাওয়া যায় তাঁদের কাছ থেকে। সুদের কারবারে টাকা খাটান এই কাবুলিওয়ালারা। বছর শেষে সব পাওনা বুঝে নিয়ে পাড়ি দেন সুদূর আফগানিস্তানে।
কিন্তু ৫০০ ও ১,০০০ টাকার নোট বাতিলের পর কলকাতার এই কাবুলিওয়ালাদেরও পকেটে টান পড়েছে। নিয়মিত যাঁরা টাকা ধার দিয়ে এসেছেন, তাঁদের এখন খাওয়ার পয়সাটুকুও নেই। এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে, আর নতুন করে ঋণ দেওয়া তো দূরের কথা, যা দিয়েছেন তাও উদ্ধার করা যাবে কিনা বুঝতে পারছেন না তাঁরা।
এই কাবুলিরা অনেকেই কয়েক প্রজন্ম ধরে বাস করছেন কলকাতায়। আগে এঁদের পূর্বপুরুষদের ছিল আতর, পেস্তা, কিসমিস, হিং ও কার্পেটের ব্যবসা। এখন তা শুধু সুদের কারবার।
কাবুলিরা জানাচ্ছেন, যাঁদের টাকা ধার দেওয়া হয়েছিল, তাঁরা টাকা ফেরত দিতে চান পুরানো নোটে। বেশিরভাগের কাছেই যথেষ্ট ১০০ টাকার নোট বা নতুন ২০০০ টাকার নোট নেই। কিন্তু পুরানো নোট তাঁদের পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়। ফলে ঋণগ্রহীতারা আরও সময় চাইছেন। উল্টোদিকে এখনও হাতে নতুন নোট না আসায় নতুন করে ঋণ দিতে পারছেন না তাঁরা।
এই কাবুলিওয়ালারা ভারতীয় নাগরিক না হওয়ায় এঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই। ফলে পুরানো নোট বদলে নেওয়ার উপায় নেই এঁদের। যে সব নোট এঁদের কাছে আছে, সবই পুরানো। বদলাতে না পারায় সেই নোটগুলির কোনও মূল্যও নেই আর। পাশাপাশি কোনও বন্ড বা চুক্তি করে টাকা ধার দেন না এঁরা। পুরোটাই বিশ্বাসের ওপর। ফলে সমস্যা আরও বেড়েছে।
তা ছাড়া কয়েক বছর ধরেই ব্যবসা মন্দা চলছে এই কাবুলিদের। তার ওপর এই নোট বাতিলের ধাক্কায় পুরো ব্যবসাই ধসে পড়ার উপক্রম।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল