চার সাদা মনের মানুষকে সংবর্ধনা দিলেন পুলিশ সুপার
চার সাদা মনের মানুষকে সংবর্ধনা দিলেন পুলিশ সুপার

চার সাদা মনের মানুষকে সংবর্ধনা দিলেন পুলিশ সুপার

বিডি নিউজ ৬৪: সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলার চার শিক্ষানুরাগীকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া গরু না থাকায় নিজেরা সরিষা ভাঙানোর জন্য তেলের ঘানি টানা তিন ভাইয়ের মধ্যে দুইজনকে আর্থিক সহায়তা প্রদান, এতিম, সুবিধা বঞ্চিত এবং বিদ্যালয়ে ঝরে পড়া শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল সাহাপাড়া বাজারে  আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঘানি টানা তিন ভাইয়ের মধ্যে দুইজনকে আর্থিক সহায়তা প্রদান, এতিম, সুবিধা বঞ্চিত এবং বিদ্যালয়ের ঝরে পড়া শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে এসব উপহার সামগ্রী বিতরণ এবং গুণীজন ও সাদা মনের মানুষ সম্বর্ধনা প্রদান ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম। আব্দুল মালেক মুকুলের সভাপতিত্বে সাহাপাড়া জনকল্যাণ সমিতি আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম ছাড়াও অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ওয়ারেশ আলী, সাদা মনের মানুষ আব্দুর রশিদ মাস্টার, কার্তিক চন্দ্র পরামানিক, ঘানি মালিক শম্ভুপদ সাহার স্ত্রী  গাজলী রানী এবং আহসান হাবিব বক্তব্য দেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর কালের কণ্ঠে ছবিসহ ‘জীবনের ঘানি টেনে’ ও ৫ অক্টোবর শেষ একই পত্রিকায় ‘আর ঘানি টানতে হবে না মিনতীকে’ শিরোনামে সংবাদের পর দুইজন ঘানির মালিক শম্ভুপদ ও তারাপদকে ব্যক্তিগতভাবে গরু কেনার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া তিনি ব্যক্তিগতভাবে তারাপুর সাহাপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদের পাঠশালার প্রায় ১০০ জন কচিকাঁচাকে স্কুলের পোশাক এবং শিবগঞ্জ ও ভোলাহাটের এক নারীসহ চারজন সাদা মনের মানুষকে সংবর্ধনা ও কেস্ট প্রদান করেন।

ঘানির মালিক শম্ভুপদ সাহার স্ত্রী গাজলী রানী সাহা বলেন, “একমাত্র কালের কণ্ঠে আমাদের নিয়ে প্রথম সংবাদ প্রকাশের পর আমার ভাসুর হরিপদ ও জা মিনতী রানী সাহা একটি গরু পেলেও আমরা কিছুই পাইনি এতদিন। পুলিশ সুপার সারের দেওয়া ফুলের তোড়া ও কিছু আর্থিক সহায়তা পেয়ে খুঁশি।” তিনি বলেন, “২০ বছর ধরে  আমার স্বামীর পাশাপশি আমি নিজেও ঘানি টেনে তেল তৈরির পর বিক্রি করেই খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি, পশুর কাজটি অভাবের কারণে আমাদের করতে হয়। অর্থাভাবে এতদিনেও কিনতে পারা যায়নি ঘানির জন্য গরু।”

পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, “মানবিক দিক বিবেচনা করে সাধ্যমত ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা করার চেষ্টা করেছি। বিত্তবানরা এগিয়ে এসে সাদা মনের এসব মানুষ ও টাকার অভাবে গরু কিনতে না পারায় নিজেরা এতদিন পশুর কাজটি করে আসা মানুষদের পাশে দাঁড়ালে কেউই অসুখী থাকবে না।” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, “অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানের এলাকা হিসেবে চিহ্নিত সাহাপাড়ায় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে সচেতনতামূলক সভা করেছে পুলিশ। তিনি জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক, অস্ত্র এবং সমাজে অস্থিরতা প্রতিরোধে সবাইকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *