নাগরদোলা থেকে পড়ে মৃত্যু তরুণীর, আহত ১ (ভিডিওসহ)

ছুটির দিনের মনোরঞ্জন পাল্টে গেল মৃত্যুফাঁদে। হাওড়ার একটি পার্কের অ্যামিউজমেন্ট রাইডের কেস ভেঙে প্রাণ হারালেন একজন, আহত অন্যজন।

হাওড়ার বেলিলিয়াস পার্কে রবিবার নাগরদোলা থেকে পড়ে মৃত্যু হল এক তরুণীর। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আরও একজন।

ব্যাটরা থানার অন্তর্গত বেলিলিয়াস পার্কে অনেকদিন ধরেই নাগরদোলা, টয়ট্রেনের মতো রাইড রয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, হাওড়ার মালিপাঁচঘড়ার বাসিন্দা দুই বোন নেহা সিংহ (২২) এবং স্নেহা সিংহ (২৬) এদিন বেলিলিয়াস পার্কে যান। ৩০ টাকার টিকিট কেটে নাগরদোলায় চড়েন তাঁরা। চলন্ত নাগরদোলার বসার জায়গা (কেস) ভেঙে দুই বোনই নীচের কংক্রিটের রাস্তায় ছিটকে পড়েন। আহত অবস্থায় দুই তরুণীকে হাওড়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকরা নেহাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত স্নেহাকে পরে কলকাতার কম্যান্ডো হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। পরিবার সূত্রের খবর, তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘অনেক উপর থেকে ওঁরা দু’জন ছিটকে নীচে পড়েন। কংক্রিটের রাস্তায় পড়ায় তাঁদের মাথা ফেটে রক্তপাত হয়।’

কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা?

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাগরদোলাটি যখন গতি বাড়াচ্ছিল তখনই কেস ধরে রাখার ক্ল্যাম্পটি খুলে যায়। এর ফলে খুলে যায় কেসের সামনের হাতল। তখনই নেহা এবং স্নেহা ছিটকে পড়েন। হাওড়া পৌরসভা সূত্রের খবর, বেলিলিয়াস পার্কে অনেকগুলি রাইড রয়েছে। সেগুলি দেখাশোনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে একটি বেসরকারি সংস্থাকে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা এবং পার্কে আসা সাধারণ মানুষের অভিযোগ, কোনো রাইডই ঠিক মতো কাজ করে না। অনেকগুলির অবস্থাই বিপজ্জনক। হাওড়ার বাসিন্দা মহুয়া সরকার বলেন, ‘ছেলেকে পার্কে নিয়ে আসি। কিন্তু অনেক রাইড কাজ করে না। ছেলেকে টয়ট্রেনে চড়াতেও ভয় লাগে।’

পুলিশ সূত্রের খবর, রবিবার রাত পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার কোনো প্রতিনিধির সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফলে কাউকে গ্রেপ্তারও করা যায়নি। হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘রাইডগুলি ঠিক মতো রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাছাড়া পার্কের রাইডগুলির ফিট সার্টিফিকেট রয়েছে কি না, দেখা হচ্ছে তা-ও। যদি ওই সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো গাফিলতি হয়ে থাকে তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

দেখুন ঘটনাস্থলের ভিডিও নীচের লিংকগুলিতে ক্লিক করে—

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *