বিডি নিউজ ৬৪: দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা শেষে আজ ভোট। ভোটকে কেন্দ্র করে চলছে শেষ মুহূর্তের বিভিন্ন হিসেব-নিকেষ। নির্বাচনি প্রচারণায় নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতার প্রমাণ দিয়েছেন হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোটারদের নিজের দিকে টানতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন উভয়েই। তবে আজ মঙ্গলবার ভোটাররাই তাদের ভাগ্যের নির্ধারক।
মার্কিন নির্বাচনের ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেথা যায়, একটা বড় অংশের ভোটারদের মধ্যে মনোভাব পরিবর্তনের মাত্রা খুবই কম। তাই রিপাবলিকানদের দুর্গে ডেমোক্র্যাটদের আঘাত কিংবা এর বিপরীতে ডেমোক্র্যাট অধ্যূষিত অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের বিজয়ী হওয়ার নজির নেই বললেই চলে। এবারের নির্বাচনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অতীতের মতোই ডেমোক্র্যাট আর রিপাবলিকানদের স্থায়ী দুর্গগুলো ফলাফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
কলোরাডো
ভোটযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দোদুল্যমান বা পরিবর্তনশীল রাজ্যগুলোর মধ্যে একটি কলোরাডো। এখানে রয়েছে ৯টি ইলেক্টোরাল ভোট। ২০০৪ সালে শতাংশের হিসেবে সবচেয়ে বেশি ভোটে ২০০৪ সালে এখানে জিতেছিলেন রিপাবলিকান জর্জ ডব্লিউ বুশ। চার বছর আবারও একই ঘটনা ঘটেছে। তবে এবার জিতেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বারাক ওবামা। এবারের জনমত জরিপগুলোতে যে প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে তাতে হিলারিই এখানে জয় পেতে যাচ্ছেন। সবগুলো জনমত জরিপেই এগিয়ে ছিলেন তিনি।
ফ্লোরিডা
সানশাইন স্টেট বলে পরিচিত রাজ্যটি আবারও প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বেশ কয়েকবার এখানে প্রচারণায় এসেছেন হিলারি ও ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে ট্রাম্পের জন্য এ রাজ্যটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ রাজ্যে রয়েছে ২৯টি ইলেক্টোরাল ভোট। এখানে হেরে গেলে রিপাবলিকানদের ২৭০ ইলেক্টোরাল ভোট পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে দুই প্রার্থীই এখানে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছেন। লাতিনদের আগাম ভোটে হিলারির সুযোগও বাড়ছে।
আইওয়া
এই রাজ্যের ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষ শ্বেতাঙ্গ হলেও ২০০৮ ও ২০১২ সালে এখানে বারাক ওবামা জয়ী হয়েছেন। এবার ট্রাম্পের জাতীয়তাবাদী ও অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের কারণে কলেজ পাস না করা ভোটারদের সমর্থন পেতে পারেন ট্রাম্প। ওয়াশিংটন পোস্টের সর্বশেষ জরিপে এখানে ৫ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন ট্রাম্প। ডেমোক্র্যাট শিবির এখানে প্রচারণা চালালেও হিলারির উপস্থিতি খুব বেশি ছিল না।
নর্থ ক্যারোলিনা
নর্থ ক্যালোলিনায় রয়েছে ১৫টি ইলেক্টোরাল ভোট। ঐতিহাসিকভাবে এখানে রিপাবলিকানদের পক্ষে ভোটারদের অবস্থান থাকে। ২০০৮ সালে জিতলেও ২০১২ সালে মিট রমনির কাছে এখানে হেরে যান ওবামা। ১৯৯৬ সালে এখানে ভোটারদের মধ্যে আফ্রিকান-আমেরিকান ছিলেন ২৩ শতাংশ। ২০১২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৩ শতাংশ। তবে এ বছর আগাম ভোটে উপস্থিতি কম লক্ষ করা গেছে। ট্রাম্পও রাজ্যটিতে জয়ের সম্ভাব্য সব কিছু করেছেন।
পেনসিলভানিয়া
২০টি ইলেক্টোরাল ভোট রয়েছে এখানে। এ রাজ্যটির ভোটারদের মধ্যে শ্রমিক ও মধ্যবিত্ত শ্বেতাঙ্গরা রয়েছেন। যারা গত ছয়টি নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন। ২০০৮ সালে ওবামা ফিলাডেলফিয়ার সবগুলোতেই জিতেছিলেন। সর্বশেষ জরিপগুলোতে এখানে হিলারি ৫ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। হিলারির হয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট বিডেন এখানে প্রচুর পরিশ্রম করেছেন।
ভার্জিনিয়া
এ রাজ্যকে ভোটযুদ্ধে অন্যতম দোদুল্যমান বা পরিবর্তনশীল হিসেবে মনে করা হয়। তবে কয়েক মাস ধরেই হিলারি বেশ বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। মাঝখানে প্রচারণায় উভয় প্রার্থী কিছুটা শিথীল হলেও সম্প্রতি প্রতিদ্বন্দ্বীতা তীব্রতা হওয়াতে আবারও টিভি বিজ্ঞাপন প্রচারে মনোযোগ দিয়েছেন। এখানেও হিলারি মধ্যবিত্ত শিক্ষিত ও শহুরে ভোটারদের লক্ষ্য করে প্রচারণা চালিয়েছেন। বিপরীতে ট্রাম্প গ্রামীণ মানুষের সমর্থণ পাচ্ছেন। ২০০৮ ও ২০১২ সালে এখানে ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রার্থী ওবামা জিতেছিলেন। এবারও যদি হিলারি জিতে যান তাহলে রাজ্যটি নীল শিবির বলে পরিচিতি পাবে।
আরিজোনা
আরিজোনায় রয়েছে ১১টি ইলেক্টোরাল ভোট। ১৯৯৬ সালে বিল ক্লিনটনের জয়ের পর গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন স্টেট বলে পরিচিত এ রাজ্যটিতে কোনও ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জয়লাভ করেননি। তবে এবার হিস্পানিক ভোটারদের নিবন্ধন হওয়াতে হিলারি শিবির জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। সর্বশেষ জনমত জরিপগুলোতে দেখা গেছে, হিলারির চেয়ে ট্রাম্প খুব অল্প ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। হিস্পানিক ও লাতিন ভোটাররা স্বাভাবিকভাবেই ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির কারণে হিলারিকেই বেছে নেবেন।
জর্জিয়া
১৯৯২ সালে সর্বশেষ এই রাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন বিল ক্লিনটন। ফলে শুরুতে এ রাজ্যের ভোটযুদ্ধে হিলারির জয়ের সম্ভাবনা খুব কম ছিল। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে প্রচারণা শুরুর পর এখানে তীব্র প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে। এখানে ইলেক্টোরাল ভোটের সংখ্যা একেবারে কম নয়। ২৭০ টির মধ্যে ১৬টি জেতা যেকোনও প্রার্থীকেই সুবিধাজনক অবস্থায় এনে দেবে। নিজের অবস্থান ভালোর দিকে আগাচ্ছে হিলারিও আগস্ট মাস থেকেই এখানে টেলিভিশনে বেশ মোটা অংকের বিজ্ঞাপন প্রচারে জোর দিয়েছেন।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল