বিডি নিউজ ৬৪: অনেকেই সম্পর্ক বিষয়ে নানা সমস্যার কথা জিজ্ঞাসা করেন চিঠি বা ই-মেইলের মাধ্যমে। এ ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন একজন। তিনি জানান, তার গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে সম্পর্ক নয় বছর পরে ভেঙে যায়। আর এরপর অদ্ভুত সমস্যায় পড়েছেন তিনি। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে টেলিগ্রাফ।
প্রিয় ড. বয়েনটন,
আমার গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে নয় বছর ধরে সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি এ সম্পর্ক ভেঙে গেছে। আমরা উভয়েই উভয়ের আকর্ষণ হারিয়েছি। আর এ বিষয়টি চূড়ান্ত পরিণতি পেয়েছে যখন সে জানিয়েছে অন্য একজনের সন্ধান পেয়েছে সে।
আমাদের সম্পর্ক কেন খারাপ হলো, বিষয়টি আমার কাছে কিছুটা বিব্রতকর। কিন্তু এ বিষয়টি নিয়ে সে বাড়াবাড়ি করছে। সম্প্রতি সে ১০ পাতার একটি চিঠি পাঠিয়েছে, যেখানে আমার বিভিন্ন দোষ-ত্রুটির কথা তুলে ধরা হয়েছে। এসব লেখায় সে তুলে ধরেছে আমি কতটা অযোগ্য। আমি লাজুক, আমি বিরক্তিকর, আমার ওজন বেশি, আমার মানসিক সমস্যা রয়েছে, আমার গায়ে দুর্গন্ধ কিংবা আমার চেহারা খারাপ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে তার আলোচনা সত্যিই অত্যন্ত নিষ্ঠুর।
আমি জানি না কেন সে এ বিষয়গুলো তুলে ধরছে। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না, আমি যদি এতই খারাপ হই তাহলে সে কেন এতদিন আমার সঙ্গে ছিল। আর এ অবস্থায় আরেকটি প্রশ্ন আমার সামনে চলে এসেছে, আমার এত বদগুণ থাকলে আমি ভবিষ্যতে অন্য কোনো মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে পারব কি? নাকি আমাকে এভাবেই হতাশার মাঝে জীবন পার করতে হবে?
–ইতি, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
প্রিয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক,
আপনি কোনো ভয়ঙ্কর মানুষ নন।
আপনার এ সম্পর্ক গড়া ও ভাঙার বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই নেওয়া উচিত। যদিও এ বিষয়টি অনেকের ক্ষেত্রেই জটিল হয়ে ওঠে। তবে আপনার যে পরিস্থিতি তাতে এ বিষয়টি আঘাত করার মতোই।
আপনি বলছেন যে, অতীতে আপনার প্রাক্তন গার্লফ্রেন্ড এ বিষয়গুলো আপনাকে জানাতে পারত। কিন্তু সে তা না করে একেবারে সম্পর্ক শেষ করে দিয়েছে। আর এটি আপনার জন্য সত্যিই বিব্রতকর।
কিন্তু কেন তিনি এ বিষয়গুলো তুলে ধরলেন? আমরা এ বিষয়টি অনুমান করতে পারি তার কাজের ভিত্তিতে। তিনি হয়ত আপনার সঙ্গে তার সম্পর্কের দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করেছেন। এছাড়া এমন হতে পারে যে, তিনি হতাশার কারণে এমন চিঠি লিখেছেন।
এক্ষেত্রে আমার পরামর্শ হবে, তার চিঠির প্রতি মনোযোগ না দেওয়ার। কারণ তিনি চাইছেন আপনার সঙ্গে সমস্যা তৈরি করতে। আর আপনার কখনোই সে ফাঁদে পা দেওয়া উচিত হবে না।
আপনি যদি চান তাহলে তার চিঠির একটি উত্তর তৈরি করতে পারেন। আবার চাইলে নাও পারেন। তবে যদি উত্তর লেখেনও তাও তা না পাঠানোই ভালো হবে। কারণ এতে বিষয়টির জটিলতা আরও বাড়বে। এক্ষেত্রে আপনার বিষয়টির চিন্তা পুরোপুরি মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দেওয়াই উচিত হবে।
আপনার এখন করণীয় হবে, নিজের খেয়াল রাখা। এ ধরনের একটি চিঠি পাওয়া এবং সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া নিঃসন্দেহে বড় আঘাত। এক্ষেত্রে আপনার নিজেকে স্বাভাবিক রাখাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বহু মানুষই মেসেজ বা চিঠিতে এমন সব বিষয় তুলে ধরে, যার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তার পরেও বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হয়। আপনার প্রাক্তন গার্লফ্রেন্ডের দেওয়া চিঠিতে আপনার যে সমস্যাগুলোর কথা উল্লেখ রয়েছে তার মধ্যে মানসিক সমস্যার কথাও রয়েছে। এছাড়া রয়েছে আপনার দেহের বাড়তি ওজনের কথা। এ দুটি বিষয়ে আপনি চাইলেই ঠিক করতে পারেন। সুস্থ জীবনযাপনের মাধ্যমে দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এছাড়া একজন মানসিক চিকিৎসকের সঙ্গেও দেখা করতে পারেন।
এখন আপনার প্রাক্তন গার্লফ্রেন্ডকে এড়িয়ে চলাই উত্তম। তিনি যদি আপনার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাহলেও সাড়া দেবেন না। এক্ষেত্রে তার মোবাইল নাম্বার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইত্যাদি ব্লক করে দিতে পারেন। এছাড়া এ সমস্যা যদি আরও বাড়ে তাহলে আইনের আশ্রয়ও নিতে পারেন।
আপনি একজন রক্তমাংসের মানুষ। আর এ কারণে যে কোনো আঘাতই আপনার জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। এক্ষেত্রে আপনার নিজেরও কিছু ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন যেন এসব বিষয় মাথা থেকে দূর হয়ে যায়। এজন্য আপনি নানা ধরনের কোর্স করতে পারেন, নতুন বন্ধুদের সঙ্গে সময় দিতে পারেন কিংবা খেলাধুলায় মন দিতে পারেন। এছাড়া আপনার যদি কোনো শখ থাকে তাহলে তাও পূরণ করতে পারেন।
আমি বাজি ধরে বলতে পারি, কিছুদিন এভাবে কেটে গেলে বিষয়টি আপনার কাছে স্বাভাবিক মনে হবে। আপনার প্রাক্তন প্রেমিকা কী বলল, এসব নিয়ে চিন্তাভাবনার একেবারেই সময় পাবেন না।
মানসিক নির্যাতন করছে প্রাক্তন প্রেমিকা, কী করবেন?
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল