ব্যথা নিয়ে কেবাস করতে চায়?
ব্যথা নিয়ে কেবাস করতে চায়?

ব্যথা নিয়ে কেবাস করতে চায়?

বিডি নিউজ ৬৪: ব্যথা নিয়ে কেবাস করতে চায়? তবে একে নিয়ন্ত্রণের উপায় রয়েছে। হয়তো সকালে ব্যাপক যন্ত্রণা নিয়ে ঘুম ভাঙে। হয়তো আগের রাতে এতই কারণে ঘুমাতে পারেননি। ব্রিটেনের এক জরিপে বলা হয়, ২০ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন ব্যথায় অস্থির থাকেন। ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নাল অনলাইনে বলা হয়, ক্রনিক পেইন সে দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের সমস্যা। পৃথিবীজুড়ে এটা বড় যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লয়েডস ফার্মেসি ফার্মাসিস্ট অনুশ ভিম্বাত জানান, দুই ধরনের ব্যথায় আক্রান্ত হয় মানুষ। অ্যাকুট পেইন এবং ক্রনিক পেইন। অ্যাকুট পেইন হঠাৎ করেই আসে। এর কারণও ভিন্ন হয়ে থাকে। এটা চলেও যায়। তবে ক্রনিক পেইন বহুদিন ধরে থাকে। এটা টানা তিন মাস বা তারও বেশি সশয় ধরে থাকে।

ক্রনিক ব্যথার সঙ্গে অধিকাংশ ক্ষেত্রে জড়িয়ে থাকে ব্যাক পেইন, অস্টেওআরথ্রাইটিস এবং রিউমেটয়েড আরথ্রাইটিস। ক্রনিক পেইন মানুষের জীবনটাকে নরক বানিয়ে দেয়। তার জীবনযাপন বদলে যায়। তাই একে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আর তা নিয়ন্ত্রণের ভালো উপায়ও রয়েছে। অথচ এর সম্পর্কে মানুষের ধারণা নেই বললেই চলে। ব্রিটিশ গবেষকদের মতে, মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ ক্রনিক পেইনের ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসা পায়।

ক্রনিক পেইন সামলে নিতে প্রথমেই মানুষ ব্যথানাশক ওষুধের কথা ভাবে। অথচ তার আগে ফার্মাসিস্টদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্যারাসিটামল, ইবুপ্রোফেন বা কো-কোডামল সবই গ্রহণ করে মানুষ। এদের প্রয়োগ সঠিকভাবে হলে উপকার মেলে। ব্যথা বুঝে বিভিন্ন মাত্রায় পেইন কিলার গ্রহণ করতে হয়। নয়তো হিতে বিপরীত হয়ে যায়।

তবে মনে রাখতে হবে, ব্যথা কমাতে কেবলমাত্র ওষুধের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। আর অন্যান্য উপায় রয়েছে। বেশ কয়েক ধরনের যন্ত্র রয়েছে যেগুলো বৈদ্যুতিক তরঙ্গের মাধ্যমে ব্যথা কমাতে সহায়তা করে। এসব গেজেট দুটো ভিন্ন পদ্ধতিতে কাজ করে। ইলেকট্রিক্যাল সংকেত দেহের ব্যথার সংকেতকে আটকে দেয়। এ ছাড়া এন্ড্রোফিন্স হরমোনের ক্ষরণ ঘটায়। এটা দেহের প্রাকৃতিক ব্যথানাশক। দেহে একটি প্যাড লাগানো থাকে। টেন্স নামের এক মেশিন এসব সংকেত প্যাডে পাঠিয়ে দেয়। একই ধরনের কাজ করতে কিছু ছোট বহনযোগ্য যন্ত্রও রয়েছে। এমন একটি যন্ত্রের নাম পেইনগন প্লাস+২। এটি কলমের আকৃতির একটি যন্ত্র। আরো আছে একটি অ্যাক্টিপ্যাচ এবং পরিধাণযোগ্য ব্যাক প্যাচ। এর মাধ্যমে ব্যাক পেইন থেকে মুক্ত থাকা যায়।

হাড়ের সংযোগস্থলের ব্যথার জন্য বিশেষজ্ঞরা ফ্লেক্সিক এর কথা বলেন। এর ব্যবহারে জয়েন্টে লুব্রিকেশন ঘটে। ফলে ব্যথা কমে আসে।

হট অ্যান্ড কোল্ড পদ্ধতিও বেশ কাজের। তাপ ব্যথার তীব্রতা কমিয়ে আনে। আর ঠাণ্ডা প্রদাহ কমায়।

আসলে আপনার ক্রনিক ব্যথার জন্য কোনো পদ্ধতি বেশি কার্যকর তা বিশেষজ্ঞই ঠিক করে দিতে পারবেন। কারো গেজেট ব্যবহারের দরকার হবে। কেউ বা সাধারণ কোনো পদ্ধতিতেই আরাম বোধ করবেন। তাই বিয়ষটি বিশেষজ্ঞের ওপর ছেড়ে দেওয়াই ভালো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *