বিডি নিউজ ৬৪: ভারতের ভোপালে পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আট মুসলিম ছাত্রনেতার মৃত্যু নিয়ে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। এ ঘটনায় ভারতীয় পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। দেশ-বিদেশে এ ঘটনায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সর্বশেষ একটি অডিও টেপ ফাঁস হওয়ার পর নতুন করে সমালোচনার শুরু হয়েছে।
ওই অডিও টেপ শুনে ধারণা করা হচ্ছে, পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকেই ছাত্রনেতাদের হত্যার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে অডিও টেপটির গ্রহণযোগ্যতা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
ওই অডিও টেপে শোনা গেছে, ‘সবাইকে হত্যা কর’ বলে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
এর উত্তরে বলা হচ্ছে, ‘পাঁচজনকে মেরে ফেলা হয়েছে’।
কিছুক্ষণ পরই কন্ট্রোল রুমকে জানানো হয়, ‘আটজনকেই মেরে ফেলা হয়েছে’।
তখনই পুলিশ সদস্যরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। এক পক্ষ অপর পক্ষকে ধন্যবাদও জানান। আর কন্ট্রোল রুম থেকে বলা হয়, অবস্থা নিয়ন্ত্রণে দ্রুতই অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাবে।
কথোপকথন শুনে ধারণা করা হচ্ছে, ৯ মিনিটের ওই অডিও টেপটি কন্ট্রোল রুম থেকেই ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গুলি করার সময় ওই ছাত্রনেতারা নিরস্ত্র ছিল বলে জানিয়েছেন মধ্যপ্রদেশ এটিএস এর প্রধান সঞ্জিব শামি।
বুধবার তিনি বলেন, ”আইনে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে, কখন পুলিশ শক্তি প্রয়োগ করতে পারবে এবং কখন হত্যা করতে পারবে। নিহতরা ছিল ভয়ংকর সন্ত্রাসী। আইন অনুসারে, পুলিশ যদি দেখে তাদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তাহলে তারা সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহার করতে পারে।”
এর আগে গত রবিবার গভীর রাতে ভোপালের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কেন্দ্রীয় কারাগারে এক কারারক্ষীকে হত্যা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত মুসলিম ছাত্র সংগঠন স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অব ইন্ডিয়া (সিমি) এর ওই আট সদস্য পালিয়ে যান বলে দাবি করে পুলিশ।
এর ১০ ঘণ্টার মধ্যেই সোমবার সকালে ভোপালের অদূরে ইতখেড়ি গ্রামের কাছে মালিখেড়া নামক স্থানে পুলিশ ও অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াডের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পলাতক সিমি সদস্যরা নিহত হন বলে জানায় পুলিশ।
১৯৭৭ সালে ছাত্র সংগঠন সিমি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সংগঠনটির বিরুদ্ধে নাশকতায় মদদ দেওয়ার অভিযোগ এনে ২০০১ সালে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ভারতের তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকার।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল