কংগ্রেসম্যান প্রার্থী জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি সুনাম বৃদ্ধি পাবে
কংগ্রেসম্যান প্রার্থী জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি সুনাম বৃদ্ধি পাবে

কংগ্রেসম্যান প্রার্থী জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি সুনাম বৃদ্ধি পাবে

বিডি নিউজ ৬৪: যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টা প্রবাসী বাংলাদেশি কংগ্রেসম্যান প্রার্থী ড. রশিদ মালিক বিজয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসীদের মর্যাদা আরো বাড়বে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্তোরাঁয় রশিদ মালিকের জন্য তহবিল সংগ্রহের এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন।
বাংলাদেশি কংগ্রেসম্যান প্রার্থী ড. রশিদ মালিক বলেন, হিলারি ক্লিনটন এবং আমার বিজয় সুনিশ্চত। আমি নির্বাচিত হলে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়বে আমেরিকার মূলধারার রাজনীতিতে। হিলারি ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট হলে সর্বস্তরের নারীরা নিরাপদ এবং আত্মমর্যাদা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেত পারবেন।
তহবিল সংগ্রহের এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির সভাপতি হাসানুজ্জামান হাসান। এনওআইসি ডেমোক্রেট এলাইয়েন্স এর ব্যানারে তহবিল সংগ্রহের এ অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্টপোষক ছিলেন বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর আনোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে  বক্তব্য দেন ড. রশিদ মালিকের সমর্থনে বক্তব্য রাখেন ড. রশিদ মালিকের নির্বাচনের ক্যাম্পেইন ম্যানেজার আলী হোসেন, ডা. খন্দকার মাসুদুর রহমান, ফার্মাসিস্ট আওয়াল সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান, সি এন্ড টি হোম কেয়ারের সিওও মারে উইলিয়াম, আটলান্টা থেকে আগত নবুয়াত খান মজলিস প্রমুখ।
স্বাগত বক্তব্যে হাসানুজ্জামান হাসান বলেন, ইতিপূর্বে আমি ড. রশিদ মালিকের নাম শুনিনি, তাকে দেখিনি, তাকে চিনিও না। কিন্তু ইউএস কংগ্রেসম্যান পদে প্রার্থীতার কথা শুনে তার প্রতি আগ্রহী হই এবং গুগুল দেখে তার সম্পর্কে জেনে অভিভুত হই এবং তার জন্য কিছু করার রয়েছে মনে করেই ফান্ড রেইজিং অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তিনি বলেন, ড. মালিকের প্রতিদ্ব›িদ্বতা নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করবে। সবাই মিলে তাকে ভোট দিলে তার জয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে। তিনি প্রেসিডেন্ট পদে হিলারির পাশাপাশি ড. রশিদ মালিকের পক্ষে জর্জিয়াবাসী বাংলাদেশীদের কাজ করা এবং ভোট দেয়ার আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত মোর্শেদ আলম, ড. দেলোয়ার হোসোন, ডা. খন্দকার মাসুদুর রহমান, ড. বদরুল খান, পিপলস এন টেকের প্রধান নির্বাহী আবু বকর হানিপ, মান্নান সুপার মার্কেটের সিইও সৈয়দ মান্নান, এটর্নী মঈন চৌধুরী, জেবিবিএ’র সভাপতি জাকারিয়া মাসুদ জিকো, ফান্ড রাইজিং অনুষ্ঠানের সদস্য সচিব ফাহাদ সোলাইমান, সি এন্ড টি হোম কেয়ারের সিইও মারি গ্যালিয়াস।
ড. রশিদ আরো বলেন, আমরা যেখানে যাচ্ছি সেখানে তরুণদেরকে পাচ্ছি , যারা কিনা ভবিষ্যত আমেরিকাকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।  তরুণদের একটাই কথা আমেরিকা বদলাতে হলে, শান্তি বজায় রাখতে হলে হিলারিকে বিজয় করা ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই।
তিনি বলেন, বিগত ৪৩ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বাস করছি। আমাদের টার্গেট নতুন প্রজন্মের জন্য কাজ করা। তিনি বলেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, সমগ্র বিশ্বে আজ নারী ও শিশুরা অবহেলিত, নির্যাতিত, মানবাধিকার ভুলন্ঠিত। এই অবস্থান পরিবর্তণ করতে হলে নারীদের সম্মান-মর্যাদা দিতে হবে। আর ‘ম্যাডার প্রেসিডেন্ট’ হিলারিই পারবেন সবার মর্যাদা-অধিকার নিশ্চিত করতে। তিনি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে ট্রাম্প ও  হিলারির মধ্যকার পার্থক্য সংক্ষেপে তুলে ধরে হিলারি ক্লিনটনকে একজন যোগ্য প্রার্থী এবং তার জয়ের ব্যাপারে ১০০ ভাগ নিশ্চিত উল্লেখ করে ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করার জন্য বাংলাদেশী-আমেরিকানদের প্রতি আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ড. রশিদ মালিক ইউএস কংগ্রেম্যান পদপ্রার্থী হয়ে সহসের পরিচয় দিয়েছেন। আমাদের পথ দেখাচ্ছেন। তার জন্য কাজ করা আমাদের দায়িত্ব। অর্থ, শ্রম, মেধা, সময় যে কোন পথে আমরা তার কাজে লাগতে পারি। আমাদের একটু সাহায্য-সহযোগিতা তাকে বিজয়ী করতে ভূমিকা রাখবে।
এদিকে অন্যান্য বক্তারা ড. রশিদ মালিককে একজন সহজ-সরল, পরোপকারী সুন্দর মনের মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ওবামা-হিলারি যেমন আমেরিকার পরিবর্তণের নাম তেমনী ড. মালিক বাংলাদেশী কমিউনিটির পরিবর্তনের নাম। ড. মালিক জয়ী হলে কংগ্রেসে নতুন প্রজন্ম, বাংলাদেশী-আমেরিকান আর বাংলাদেশরই প্রতিনিধিত্ব করবেন। বক্তারা বলেন, ড. মালিকের জন্য আমরা বাংলাদেশী-আমেরিকানরা গর্বিত। তিনি আমাদের মাইল ফলক, নতুন প্রজন্মের জন্য রোল মডেল। আগামী দিনে আমরা তাকে অনুসরণ করবো।
আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল আহসান, নিউ ইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের আহবায়ক ডা. ওয়াজেদ এ খান, জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, মূলধারার রাজনীতিক এমএএফ মেসবাউদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার ফরহাদ, সি এন্ড টি হোম কেয়ারের প্রেসিডেন্ট জেমস, কলামিস্ট আবু জাফর মাহমুদ, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট মোতাহার হোসেন, মাজেদা উদ্দিন ও মঞ্জুরুল ইসলাম রবিন প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *