বিডি নিউজ ৬৪: রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) নতুন ভবন নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও প্রায় পাঁচ বছর আগেই ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এরপর ঠিকাদারের কাছ থেকে বুঝে নিয়ে উদ্বোধনের পর সেখানে রোগীদের চিকিৎসাসেবাও দেওয়া হচ্ছে।
ভবনটির চারটি ফ্লোরে রোগী, তাদের স্বজন, চিকিৎসক-নার্স এবং হাসপাতালের কর্মচারীসহ অন্তত এক হাজার মানুষ সার্বক্ষণিক অবস্থান করেন। রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁদের মধ্যে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভবনটি কখন ভেঙে পড়ে-এমন আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে তাদের মধ্যে।
এর আগে ২০১২ সালের ১৭ জুলাই তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল আমিন উদ্বোধন করেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ১০০০ শয্যার নতুন ভবনটি। প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চারতলা এ ভবন নির্মাণ করা হয় হাসপাতালের পুরনো ভবনগুলোর মাঝখানে অর্থাৎ হাসপাতালে ঢুকতেই হাতের ডান দিকে। কিন্তু ভবনটির লিফটের সামনে ভাঙা স্থানে বাঁশ দেখা গেছে। মোটা আকৃতির বাঁশ কেটে সেখানে বাঁশের ফালা ব্যবহার করা হয়েছে রডের পরিবর্তে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে ওই স্থান আবার প্লাস্টার করে দিয়েছে। যদিও ভাঙা টাইলসের নিচেই বাঁশ দেখা গেছে। কিন্তু টাইলসের ওই স্থানটিতে বালু ও সিমেন্ট দিয়ে প্লাস্টার করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, লিফটে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনা প্রকাশ হওয়ায় হাসপাতালজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি সরেজমিনে দেখতে গিয়ে ভাঙা স্থানে প্লাস্টার করার দৃশ্য চোখে পড়েছে। প্লাস্টারের ওপর আবার পুরনো কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। কাপড়ের নিচে সিমেন্ট আর বালু দিয়ে প্লাস্টার করা হয়েছে। প্লাস্টারের নিচে বাঁশের ওপর পত্রিকা বিছানো রয়েছে যাতে মেশানো সিমেন্ট ও বালু পড়ে না যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে ওই হাসপাতালের রোগীর স্বজনদের মাঝেও চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। বাঁশ দিয়ে নির্মাণ করা ভবনটি কখন ভেঙে পড়ে- এ নিয়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে তাদের মাঝে।
জানতে চাইলে হাসপাতালর ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের একজন রোগীর স্বজন জুলহাস আলী বলেন, “হাসপাতালের এ বহুতল ভবন নির্মাণে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। সেটি দেখেও এলাম। এখন এ ভবনে থাকতেই ভয় লাগছে। নিজের রোগী নিয়ে এখান থেকে পালাতে পারলেই বাঁচি। সকাল হলে চিকিৎসককে বলে রোগীকে নিয়ে বাড়ি চলে যাব, তবু এ হাসপাতালে থাকব না। কারণ কখন বাঁশের তৈরি ভবন ভেঙে মাথার ওপর পড়বে, তখন রোগীর চিকিৎসা করাতে এসে সবাই লাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হবে।”
বিষয়টি তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িত ঠিকাদার ও প্রকৌশলীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন হাসপাতালের একাধিক কর্মককর্তা-কর্মচারী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা বলেন, “এ হাসপাতালের নতুন ভবনটি মাত্র বছর চারেক আগে নির্মাণ করা হলেও এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। আবার টাইলসও উঠে যাচ্ছে। এতে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরপরই ব্যাপক অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়ে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে উদাসীন মনোভাব পোষণ করে এসেছে সবসময়। ফলে এখন পুরো ভবনটিই আতঙ্কের ভবনে পরিণত হয়েছে।”
এদিকে, বাঁশ ব্যহারের বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য রাতে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি আমাকেও কয়েকজন জানিয়েছে। তবে আমি দেখিনি। আর ওই ভবনটি নির্মাণ হয়েছে ৪-৫ বছর আগে। আমি আসার আগে। ভবনটি নির্মাণ করেছে রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ। তারাই বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন।” ভাঙা স্থানে কারা নতুন করে প্লাস্টার করেছে- জানতে চাইলে পরিচালক বলেন, “এটিও মনে হয় গণপূর্ত বিভাগের লোকজনই করে গেছে। কারণ ভবনটি তারাই করেছে।”
বিষয়টি নিয়ে রাতে রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী লতিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা গলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল