বিডি নিউজ ৬৪: স্থূলতা নানা রোগের কারণ হতে পারে। স্থূলতা না থাকলেও অন্যান্য শারীরিক সমস্যার সঙ্গে জন্মবিরতিকরণ পিল ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এক গবেষণায় বলেন, ধূমপান, উচ্চরক্তচাপ কিংবা ডায়াবেটিস থাকলে জন্মবিরতিকরণ পিল নারীদের স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
ভারতের গুরগাওয়ের আর্টেমিস হসপিটালের স্ট্রোক ইউনিটের নিউরোইন্টারভেনশন সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ বিপুল গুপ্ত জানান, ওরাল কন্ট্রাসেপটিভ আইস্কেমিক স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। এতে মস্তিষ্কের রক্তনালীতে রক্ত জমাট বেঁধে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। যে নারীরা জন্মবিরতিকরণ পিল গ্রহণ করেন, তাদের ঝুঁকিটা অনেক বেশি। এই পিল রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে।
বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় ঝুঁকির মাত্রা আরো বেড়ে যায়। উচ্চরক্তচাপ হৃদযন্ত্রে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। এ ছাড়া মাইগ্রেনের কারণেও নারীদের স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে তিনগুণ। এসব তথ্য দেন স্যার গঙ্গা রাম হসপিটালের নিউরো অ্যান্ড স্পাইন সার্জন সত্যম সিং চাব্রা। ধূমপায়ী নারীদের জন্মবিরতিকরণ পিল গ্রহণ করতে মানা করেন বিশেষজ্ঞরা।
গুপ্তা বলেন, স্বাস্থ্যগত এক জরুরি অবস্থার সৃষ্টি হয় স্ট্রোক ঘটলে। এটা মানুষকে বিকলাঙ্গ করে দেয় এবং অকালে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। মস্তিষ্কের কোনো অংশে হঠাৎ করেই রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে স্ট্রোক হয়। ওই অংশ কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান পায় না।
আইস্কেমিক স্ট্রোক ছাড়াও হেমারহেজিক স্ট্রোক হতে পারে যদি মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালী বিস্ফোরিত হয়ে রক্তক্ষরণ ঘটে। স্ট্রোক হলে মস্তিষ্কে কিছু কোষ মরে যায় এবং ওই অংশের নিয়ন্ত্রণ হারায়। এতে পেশি নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয় ও স্মৃতি হারিয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৮০ শতাংশ স্ট্রোক প্রতিরোধ করা যায়। আর তা করতে হলে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাগুলোকে সামলে রাখতে হবে। উচ্চরক্তচাপ, ধূমপান ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিরাপদ থাকা সম্ভব। নারীদের ক্ষেত্রে এসব সমস্যা থাকা অবস্থায় যদি জন্মবিরতিকরণ পিল খাওয়া হয়, তবে স্ট্রোকের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
স্ট্রোক এমন এক অবস্থা যা মানুষকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ঘটে গেলে সুস্থতার জন্য স্পিচ থেরাপি, ফিজিক্যাল থেরাপি ইত্যাদি প্রয়োগ করতে হয়। নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে অবস্থার উন্নতি ঘটানো সম্ভব।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল