বিডি নিউজ ৬৪: দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক জিয়ুন-হাই তার রাষ্ট্রপতি সহায়তাকারীদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। এমনকি তার চিফ অফ স্টাফও পদত্যাগ করেছেন। রবিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে এ কথা জানানো হয়েছে। দেশটিতে চলমান রাজনৈতিক সংকটের মাঝেই এ পদত্যাগের ঘটনা ঘটল।
সম্প্রতি চোই শুন-সিল নামে তার এক পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাব-প্রতিপত্তির অপব্যবহার কেলেংকারিতে নাকাল ছিলেন পার্ক। এর মধ্যেই তার রাষ্ট্রপতি সহায়তাকারী কর্মকর্তাদের এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটল।
চোই শুন-সিল রবিবার জার্মানি থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় ফিরে এসেছেন। পার্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি তার পুরোনো বন্ধু চোইকে তার রাষ্ট্রপতি ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির অপব্যবহার করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। এই অভিযোগের ফলে পার্ক রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন। আর সংকটকালে বন্ধুর পাশে দাঁড়ানোর জন্যই চোই শুন-সিল দক্ষিণ কোরিয়ায় ফিরে এসেছেন।
কথিত ধর্মতাত্বিক গোষ্ঠী “শ্যামানিস্টিক কাল্ট” যাকে চার্চ অফ ইটারনাল লাইফ বা অনন্ত জীবনের চার্চও বলা হয় এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন চোই শুন-সিল এর বাবা। পার্ক প্রেসিডেন্ট থাকাকালে চোই এর এই বাবা দেশটির সবচেয়ে বড় কম্পানিগুলো থেকে ৭০ মিলিয়ন ডলার নিয়েছেন।
এই ঘটনাকে দেশটির প্রধান বিরোধী দলের চেয়ারওম্যান চু মাই-আয়ে বলেছেন, “এটা এমনকি স্বৈরতন্ত্রও নয়। বরং এটা এক ভয়ানক ধর্মতাত্বিক পুরোহিততন্ত্র।” কোরিয়া জুঙ আঙ দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি এ কথা বলেন।
গণমাধ্যম চোই এর ব্যাপারে তদন্ত শুরু করলে এই ঘটনা ফাঁস হয়। নিউ ইয়র্ক টাইমসে বলা হয়েছে, পার্কের খুব ঘনষ্ঠি ছিলেন চোই। এবং পার্কের ওপর বেশ প্রভাবও বিস্তার করেছিলেন। তিনি মাঝে-মধ্যেই পার্ক এর বক্তব্যগুলো সম্পদনা করে দিতেন। এমনকি তিনি পার্ককে পোশাক-আশাক পরার ব্যাপারেও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করতেন।
“শ্যামানিস্টিক কাল্ট” বা চার্চ অফ ইটারনাল লাইফ এর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে শনিবার অন্তত ১০ হাজার লোক পার্কের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শণ করেছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট দপ্তরের মুখপাত্র জিয়ং ইয়োন-গুক রবিবার ঘোষণা করেছেন, পার্কের দীর্ঘদিনের তিন সহযোগীও পদত্যাগ করেছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ!
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল