মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখুন ৬ উপায়ে
মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখুন ৬ উপায়ে

মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখুন ৬ উপায়ে

বিডি নিউজ ৬৪: আমরা প্রায়ই শারীরিক স্বাস্থ্যের তুলনায় মানসিক স্বাস্থ্যকে অবহেলা করি। মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকলে আপনি প্রতিদিনের কাজকর্ম ভালোভাবে সম্পাদন করতে সক্ষম হবেন। আর হঠাৎ কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও আপনি ভড়কে যাবেন না। মনোবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার শীর্ষ ছয়টি উপায় হলো:

১. নিয়মিত রুটিন মেনে জীবন-যাপন করুন
দৈনন্দিন একটি রুটিন তৈরি করে সে অনুযায়ী জীবন-যাপন করুন। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত রুটিন মেনে চলুন। যারা নিয়মিত রুটিন অনুসরণ করে জীবন-যাপন করেন তাদের মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্য দুটোই ভালো থাকে।

২. সপ্তাহে ৫ দিন ব্যায়াম করুন
নিয়মিত ব্যায়াম করলে সব ধরনের রোগ-বালাই থেকেই মুক্ত থাকা যায়। সপ্তাহের প্রতিদিন সম্ভব না হলেও অন্তত ৫ দিন বা পাঁচবার ব্যায়াম করুন। শারীরিকভাবে সক্রিয়তা মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার চাবিকাঠি। কারণ যে কোনো ধরনের শারীরিক ব্যায়ামে মানবদেহে সুখের অনুভূতি সৃষ্টিকারী হরমোনের নিঃসরণ ঘটে।

৩. ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস
প্রতিদিন সঠিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ খাবার গ্রহণ করুন। প্রতিদিন অন্তত ৫টি ফল এবং প্রচুর শাকসবজি খাবেন। নারকেলের পানি এবং কলাও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ যা মেজাজ-মর্জি ভালো রাখাতে সহায়ক। কালো চকোলেট খেলেও মুড ভালো থাকে।

৪. সখের পিঁছু তাড়া করুন
আপনি হয়তো কাজ এবং নানা প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যস্ততার কারণে সপ্তাহজুড়ে একান্তই নিজের জন্য কোনো সময় বের করতে পারেন না। কিন্তু তথাপি সপ্তাহের কোনো একটি দিনের অন্তত অর্ধেক সময় ব্যক্তিগত সখের পেছনে তাড়া করার জন্য বরাদ্দ করে রাখুন। সখটি হতে পারে গান শোনার মতো সহজ কোনো কাজ, বই পড়া বা এমনকি সেলুনে গিয়ে নিজেকে একটু হালকা করার জন্য মালিশ ও ম্যাসেজ করানো। আমরা অন্যদের সেবায় এতো বেশি ব্যস্ত থাকি যে নিজেদের সেবা করার কথা ভুলেই যাই।

৫. পছন্দের মানুষদের সঙ্গে গুনগত মানসম্পন্ন সময় কাটান
চারপাশের লোকদের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক রাখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এরা হলেন আপনার বন্ধুমহল, পরিবার এবং সহকর্মীরা। এটা একটি প্রমাণিত বিষয় যে, কারো মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকাটা নির্ভর করে তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলোর গুনগত মানের ওপর।

৬. প্রযুক্তির অতি ব্যবহার এড়িয়ে চলুন
আজকাল মনোযোগ বিক্ষিপ্ত হওয়ার একটি বড় কারণ হলো প্রযুক্তির অতি ব্যবহার। সারাক্ষণ ইন্টারনেট, ফোন, ট্যাব এবং কম্পিউটার ও ল্যাপটপসহ অন্যান্য ছোটখাটো প্রযুক্তি নিয়ে ব্যস্ত থাকলে লোকের সঙ্গে পারস্পকি ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া, মতবিনিময় এবং আলাপ-আলোচনার কোনো সময় পাওয়া যায় না। আর এসব আমাদের জেগে থাকার বেশিরভাগ সময়টুকুই নষ্ট করে ফেলে। সুতরাং ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত এক ঘন্টা আগে থেকে সব ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার বন্ধ করুন। এমনকি দিনের বেলায়ও প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিত রাখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *