হিজড়াদের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ মিরপুরের বাসযাত্রীরা
হিজড়াদের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ মিরপুরের বাসযাত্রীরা

হিজড়াদের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ মিরপুরের বাসযাত্রীরা

বিডি নিউজ ৬৪: ট্রাফিক জ্যামে বাস এসে থামতেই হাতে তালি দিতে দিতে উঠে পড়লেন দুজন হিজড়া। না, তারা যাত্রী হয়ে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য বাসে উঠেননি। তাদের উদ্দেশ্য চাঁদা তোলা। বাসে উঠেই দুজন দুদিক দিয়ে যাত্রীদের বিভিন্ন সম্বোধন করে চাঁদা চাইতে লাগলেন। চাঁদার সর্বনিম্ন পরিমাণ ৫ টাকা। বেশ মার্জিত তাদের ভাষা। তবে কেউ দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলেই সেই ভাষা বদলাতে সময় লাগেনা।

হিজড়াদের গ্রুপে সাধারণত দুজন করে থাকে। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচক্কর হয়ে যেসব বাসযাত্রীরা নিয়মিত যাতায়াত করেন তাদেরকে প্রায় প্রতিদিনই এই দৃশ্যের মুখোমুখি হতে হয়। সাধারণত হিজড়াদের নিয়ে কেউ ঘাঁটাতে চায় না। প্রথমে অনুরোধ; তারপর জবরদস্তি করে হলেও টাকা আদায় করে ছাড়ে। যদি কোন যাত্রী কোনো কারণে টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে তখন তাকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল বাক্যবর্ষণ শুরু হয়। বাধ্য হয়েই তাই বেচারা যাত্রীকে টাকা দিতে হয়।

কিন্তু কেন এই চাঁদাবাজি? একজন হিজড়াকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “ছেলে-মেয়েদের খাওয়াব, আমরা খাব। তাই টাকা তুলছি।” দুজনেই নাম প্রকাশে অপরাগ। সাংবাদিক পরিচয় দিলে দ্রুত নেমে যেতে থাকেন বাস থেকে। নামার সময় একজন বলে উঠেন, “আপনারা ভদ্রলোকরা তো আমাদের চাকরি দেন না, আমাদের খাওয়াবে কে?” জোর করে টাকা নেন কেন?-জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “আমরা জোর করে নেইনা।”

এমন সময় বাসযাত্রীরাও বিষয়টি বিভিন্ন অভিযোগ করেন। একটি বেসরকারী কম্পানিতে চাকরিরত নুরুল আফসার বলেন, “ভাই, একা থাকলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু পরিবার নিয়ে যখন বাসে উঠি তখনও এদের অশ্লীল কথা শুনতে কেমন লাগে বলুন তো?”

সরকারী বাঙলা কলেজের ছাত্র রবিন বলেন, “আমাকে কলেজ এবং টিউশনির জন্য দিনে বেশ কয়েকবার এই পথে যেতে হয়। এর ফলে দিনে একাধিকবার ওদের খপ্পরে পড়তে হয়। আর টাকা না দিয়ে কোনো উপায় নেই।”

বাসযাত্রী শারমিন খান বলেন, “একদিকে ভিক্ষুকদের উপদ্রব, অন্যদিকে এই হিজড়া। ভিক্ষুকদের তাড়ানো যায় কিন্তু ওদের সুন্দর  করে ‘না’ বললেও সমস্যা। আজে বাজে কথা বলা শুরু করে।”

মিরপুর ১০ নম্বর গোলচক্কর এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন পুলিশ সদস্যকে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এটা নিয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। ওরা মাঝেমধ্যে কিছু টাকা-পয়সা তোলে বলে জানি। যাত্রীরাও খুশি হয়ে দিয়ে দেয়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *