বিডি নিউজ ৬৪: আপনি কি আপনার সঙ্গী বা সঙ্গীনির এসএমএস বা অনলাইন কথপোকথন পরখ করে দেখার জন্য সবসময় উদগ্রীব হয়ে থাকেন? আপনি কি আপনার সঙ্গী বা সঙ্গীনি ঘরের বাইরে গেলে তিনি কোথায় আছেন এবং কী করছেন তা জানার তীব্র প্রয়োজন অনুভব করেন? আপনার সঙ্গী বা সঙ্গীনি তার বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে গেলে কি আপনি তিনি যাদের সাথে বাইরে ছিলেন তাদের বিস্তারিত বিবরণ জানতে চান?
যদি ওপরের সবগুলো প্রশ্নের উত্তরে আপনি হ্যাঁ বলেন, তাহলে বুঝতে হবে আপনি একটি দমণ-পীড়ন এবং আধিপত্যমূলক সম্পর্কের মধ্যে আছেন। সঙ্গী বা সঙ্গীনির ওপর অতিরিক্ত অধিকার ফলানোর প্রবণতার উৎপত্তি হয় সম্পর্কে বিশ্বাস ও নিরাপত্তাহীনতা এবং আত্মসম্মানবোধের ঘাটতি থেকে।
একজন অতিনিয়ন্ত্রণবাদি সঙ্গী বা সঙ্গীনির বৈশিষ্ট হলো, অযৌক্তিক ঈর্ষাপরায়ণতা, অনবরত অন্যের সঙ্গে প্রেমের অভিযোগ এবং নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা থেকে উৎসারিত কর্তৃত্ববাদি আচরণ। লোকের সামনে কীভাবে পোশাক পরতে হবে বা আচরণ করতে হবে তা নির্ধারণ করে দেওয়া, আপনি কার সঙ্গে এবং কী নিয়ে কথা বলছেন তা জানার জন্য নিয়মিতভাবে আপনার ম্যাসেজ এবং চ্যাটগুলো চেক করা। আর আপনি তাকে আপনার বন্ধুদের সামনে কীভাবে উপস্থাপন করছেন সারাক্ষণ শুধু তা জানতে চাওয়া।
দাম্পত্য সম্পর্কে ঈর্ষাপরায়ণতা এবং নিরাপত্তাহীনতার বোধ আসে মূলত অতীতের কোনো সম্পর্কে বাজে অভিজ্ঞতা থেকে। এছাড়া দাম্পত্য জীবনে প্রবেশ করার পর লোকে আসলে সঙ্গী বা সঙ্গীনির কাছ থেকে আগের চেয়ে অনেক বেশি আনুগত্য প্রত্যাশা করেন।
তবে আজকাল অনেক তরুণ-তরুণী মনে করেন যে তাদের সঙ্গী বা সঙ্গীনি যদি অতি নিয়ন্ত্রণাবাদি হন তাহলে বুঝতে হবে তিনি তার প্রতি অনেকি বেশি যত্নবান। কিন্তু সত্যিকার অর্থেই কারো প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং অতিরিক্ত কর্তৃত্ববাদি হওয়ার মধ্যে সুক্ষ্ম তফাৎ রয়েছে। সঙ্গী বা সঙ্গীনির প্রতি সন্দেহ এবং অবিশ্বাসের ফলে কর্তৃত্ববাদি হওয়ার কারণে সম্পর্ক ভেঙ্গে যেতে পারে।
ভারতের আহমেদাবাদভিত্তিক মনোবিজ্ঞানী ড. প্রশান্ত ভিমানি বলেন, এই ধরনের দাম্পত্য সমস্যা নিয়ে যারা আমার কাছে এসেছেন তাদের প্রতি দশজনের ছয়জনের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, কিশোর বয়সে বাবা-মার সঙ্গে তাদের আবেগগত বন্ধন শক্তিশালি ছিল না। যার ফলে তাদের জীবন সঙ্গী বা সঙ্গীনিই তাদের একমাত্র আবেগগত আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে। আর এ কারণেই তারা সারাক্ষণ সঙ্গী বা সঙ্গীনির পিঁছু লেগে থাকেন। অনেকে আবার নিজেকে অন্যদের তুলনায় হীন অনুভব করেন। এরা নিজেদের ইমেজ নিয়েও উদ্বিগ্ন থাকেন। ফলত এরা সঙ্গী বা সঙ্গীনির ওপর তার মনে জমে থাকা সব ক্ষোভ ঢেলে দেন। এর পেছনে টেলিভিশন, সিনেমা এবং সামাজিক গণমাধ্যমও বড় ভুমিকা পালন করে।
সূতরাং শান্তিপূর্ণ দাম্পত্য সম্পর্কের জন্য কারো প্রতি যত্ন এবং ঘোরের মধ্যে একটি স্পষ্ট সীমারেখা টেনে নিতে হবে।
সঙ্গী-সঙ্গীনির ওপর বেশি অধিকার ফলানো আত্ম-সম্মানবোধে ঘাটতির লক্ষণ
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল