মেহেরপুর জেলা কারাগারে হাজতির আত্মহত্যা
মেহেরপুর জেলা কারাগারে হাজতির আত্মহত্যা

মেহেরপুর জেলা কারাগারে হাজতির আত্মহত্যা

বিডি নিউজ ৬৪: মেহেরপুর জেলা কারাগারে জামিরুল ইসলাম নামের এক হাজতি আত্মহত্যা করেছে। তবে তার পরিবারের দাবি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জামিরুল জেলার গাংনী উপজেলার বালিয়াঘাট গ্রামের সলেমান আলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে গাংনী থানায় অস্ত্র, হত্যা ও মাদকের তিনটি মামলা রয়েছে। সবশেষ তিনি মাদকের মামলায় কারাগারে হাজতবাস করছিলেন। তার হাজতি নম্বর ছিল ১৭৭৭/১৬। তিনি কারাগারের ভৈরব-৪ ওয়ার্ডে বন্দি ছিলেন।

জানা গেছে, মাদক মামলার আসামি জামিরুল ইসলাম গত ২ অক্টোবর ইয়াবাসহ গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক হয়। পরদিন তাকে গাংনী থানা থেকে জেলা কারাগারে হস্তান্তর করা হয়। আজ সোমবার সকাল ১১টার দিকে তার স্ত্রী শাহিনা খাতুন জেলা কারাগারে স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে যায়। এ সময় জামিরুল তার স্ত্রীকে বাড়ির জমি বিক্রি করে জামিনের কথা বলে। এতে তার স্ত্রী বিরোধিতা করে। পরে দুপুরে কারাগারের ২য় তলার চিলেকোঠার সিঁড়িতে গলায় গামছা দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে কারাগার কর্তৃপক্ষ। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্ত্রী শাহিনা খাতুন বলেন, তার সাথে জামিন করা নিয়ে বিরোধিতা হয়েছে। তবে সামান্য এ ভুলবোঝাবুঝির জন্য সে আত্মহত্যা করার লোক নয়। তবে এর বিচার দাবি করে তিনি বলেন, গরিব মানুষ মামলা চালানো অর্থ তাদের হাতে নেই।

শাহিনা খাতুন আরো বলেন, তার(জাহিরুল) বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হত্যা ও একটি অস্ত্র মামলায় সে জামিনে ছিল। সবশেষ ইয়াবাসহ গত ২ অক্টোবর পুলিশের হাতে আটক হয়ে হাজত বাস করছিল সে।

নিহতের মা বানিয়ারা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে একা একা মরার ছেলে না। তাকে জেলখানার লোকজন মেরে ফেলেছে। আমি এর বিচার চাই।

এ বিষয়ে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্তাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমান জানান, হাসপাতালে ভর্তি করার পরপরই চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা ময়নাদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া বলা যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে মেহেরপুর জেলা কারাগারের জেলার শেখ আখতার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, দুপুরে আসামি গণনা করার সময় তাকে না পেয়ে খোঁজাখুজি করতে গিয়ে গলায় গামছা দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। তখন আনুমানিক ১২টা ২০ বাজবে। সাথে সাথে তাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তিনি আরো জানান, তার স্ত্রী তার সাথে বেলা ১১টার দিকে দেখা করতে আসছিলেন। জামিনের বিষয় নিয়ে ভুলবোঝাবুঝি থেকে সে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে তার ধারণা।

তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ সম্পর্কে জেলার বলেন, ময়না তদন্তের প্রতিবেদন হাতে আসলেই আসল বিষয় পরিস্কার হওয়া যাবে।

মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী  বলেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু ( ইউডি) মামলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *