বিডি নিউজ ৬৪: গুগলে এই বিষয়ে অনুসন্ধান চালালে অন্তত ১, ১২, ০০০০০ ফলাফল পাওয়া যাবে। এমনকি প্রায় প্রতিটি লেখায়ই এ বিষয়ে ভিন্নমতও দেখা যাবে। অনেকেই বলবেন, স্বল্প চর্বিযুক্ত খাদ্যাভ্যাস সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি উপায়। বাকীরা বলবেন, কার্বোহাইড্রেট, সুগার বা গ্লুটেন হলো সেই ক্ষতিকর উপাদান যেগুলো আপনার পোশাককে প্রতিরাতেই আরো শক্ত করবে। ক্যালোরি গণনা করা একটি জনপ্রিয় রীতি। কিন্তু বর্জন এবং সবিরাম উপবাস খাদ্যাভ্যাসই এখন সবচেয়ে বেশি উম্মাদনা ছড়াচ্ছে।
২০১৪ সালে টরোন্টোর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ওজন কমানোর ওপর ৫৯টি বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ পরীক্ষা করে দেখেছেন। এছাড়া ৪৮টি বিক্ষিপ্ত খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ ট্রায়ালও পরীক্ষা করে দেখেন তারা। ওই পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে তারা এই উপসংহার টানেন, ওজন নিয়ন্ত্রণে সেরা খাদ্যাভ্যাস সেটিই যা লোকে দীর্ঘদিন ধরে মেনে চলতে পারেন।
তবে, ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাসের ধরনের চেয়ে বরং বিশেষ খাদ্যাভ্যাস দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকদের মতে, আপনি কী ধরনের খাদ্যাভ্যাস মেনে চলছেন তার চেয়ে বরং বিশেষ কোনো একটি খাদ্যাভ্যাস দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করতে পারার মধ্যেই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার সাফল্য ব্যর্থতা নির্ভর করে।
নিউইয়র্ক ভিত্তিক নিবন্ধিত ডায়েটিশিয়ান অ্যালবার্ট ম্যাথেনি বলেন, “জীবন-যাপনের ধরনে দীর্ঘমেয়াদে সংগতি ও পরিবর্তনই স্বাস্থ্য এবং ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সাফল্য এনে দেয়।”
পাশাপাশি ওজন কমানোর পরও দুই তৃতীয়াংশ খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণকারী পুনরায় যে ওজন হারিয়েছেন তার চেয়ে বরং বেশি ওজন অর্জন করেন। পুনরায় ওজন অর্জনের বিষয়টি একটি গুরুতর ইস্যু। ওজন নিয়ন্ত্রণে গৃহীত খাদ্যাভ্যাসের কথিত শেষ সীমাটি ছোঁয়ার পর তা বাদ দিলেই পু্নরায় ওজন বাড়তে থাকে।
আপনি যদি জীবনের বাকি সময়টুকুও ওজন নিয়ন্ত্রণে গৃহীত বিশেষ খাদ্যাভ্যাসটি মেনে চলতে না পারেন তাহলে ওই খাদ্যাভ্যাস ওজন নিয়ন্ত্রণের একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা হবে মাত্র। এমন একটি খাদ্যাভ্যাস খুঁজে বের করুন যেটি আপনার নতুন স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস ও নতুন জীবন-যাপনের ধরণ হয়ে উঠবে। লক্ষ্যটি হলো এমন একটি জীবন-যাপনের ধরন খুঁজে বের করা যা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক। আর এতেই শুধু আপনি সাফল্য লাভ করতে পারবেন।
আপনি কী ধরনের খাদ্যাভ্যাস মেনে চলবেন?
এটি একটি লাখো ডলার মূল্যমানের প্রশ্ন, তাই না? আর আপনি হয়তো বলতে পারেন, সকলের জন্যই এটি ভিন্ন। তবে, যেকোনো স্থিতিশীল বা টেকসই খাদ্যাভ্যাসেরই এই কয়টি বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার:
১. স্বাস্থ্যকর হতে হবে:
এটি একটি সুস্পষ্ট বিষয়। তবে সহজে সাধনযোগ্য বলেই কোনো খাবার বাদ দিয়ে দেওয়া বা প্যাকেজড ডায়েট করা উচৎ নয়। শুধু ওজন নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়টি মাথায় রেখেই বিশেষ কোনো খাদ্যাভ্যাস রপ্ত করলেই চলবে না বরং স্বাস্থ্য ঠিক রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। কারণ ওজন কমাতে গিয়ে যদি স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যায় তাতে উপকারের চেয়ে বরং অপকারই হবে বেশি।
২. অল্প অল্প করে পরিবর্তন আনতে হবে
একটিমাত্র ক্ষেত্রে বিশাল কোনো পরিবর্তন না করে বরং একাধিক ছোট ছোট ক্ষেত্রে পরিবর্তনের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণের খাদ্যাভ্যাস রপ্ত করা উচিত। উদাহরণত, প্রতিবেলা খাবারে সবজি ভোজন, অতিরিক্ত সুগার গ্রহণ কমিয়ে আনা এবং বিভিন্ন বেলায় খাবার গ্রহণের মধ্যবর্তী সময়ে বেশি ক্ষুধার্ত না হওয়া। এভাবেই ওজন নিয়ন্ত্রণের খাদ্যাভ্যাস রপ্ত করাটা বাস্তবোচিত হবে।
৩. এটি দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল
এমন নয় যে, যে কোনো খাদ্যাভ্যাসই শুধু ক্যালোরি কমানোর জন্য আপনাকে কী খেতে হবে আর কী খাওয়া বাদ দিতে হবে তা বলবে। বরং এটি আপনাকে খাদ্য নিয়ে কীভাবে বন্দোবস্ত করতে হবে তা শেখাবে, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, আবেগত অতিভোজন থেকে বিরত থাকা এবং অতিবেশি ক্ষুধা ঠেকানোর কৌশল শেখাবে। এই দক্ষতাগুলো আপনাকে ওজন নিয়ন্ত্রণে আপনার বিশেষ খাদ্যাভ্যাসে দীর্ঘদিন লেগে থাকার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে।
ওজন কমানোর সবচেয়ে কার্যকর বৈজ্ঞানিক খাদ্যাভ্যাস
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল