পাকিস্তানে তথ্য পাচার : ভারতীয় পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত
পাকিস্তানে তথ্য পাচার : ভারতীয় পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

পাকিস্তানে তথ্য পাচার : ভারতীয় পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

বিডি নিউজ ৬৪: পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে স্পর্শকাতর তথ্য পাচারের অভিযোগে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের এক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ভারত-পাকিস্তানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের কাছে নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য পাচার করার অভিযোগ ওঠার পর বৃহস্পতিবার তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ডেপুটি সুপারিটেন্ডেন্ট (ডিএসপি) পদমর্যাদার ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এরইমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া খবরটি নিশ্চিত করেছে।
অভিযুক্ত ডিএসপি-র নাম তানভীর আহমেদ। আর্মড পুলিশ কন্ট্রোল রুমে কর্মরত এই পুলিশ কর্মকর্তা টেলিফোনে গোয়েন্দাদের খবর পাঠাতেন বলে সম্প্রতি অভিযোগ ওঠে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে জম্মু কাশ্মির পুলিশ বরাবর তথ্য পাঠানোর পর সেখানকার ডিজিপি কে. রাজেন্দ্র কুমার বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।
তানভীর অবশ্য দাবি করেছেন, মাসখানেক আগে সেনা কমান্ডার পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি তাকে ফোন করেছিল। উপত্যকায় কোথায় কোথায় কত সংখ্যায় পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানরা মোতায়েন রয়েছেন, তার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়। পুলিশ সুপারের অনুমতি নিয়েই এ ব্যাপারে তথ্য দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তানভীর।
সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াট’স অ্যাপ ব্যবহার করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য জানিয়েছিলেন বরখাস্তকৃত ডিএসপি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের নজরে সেই নাম্বরটি আসায় তদন্ত শুরু করে তারা। তারপরেই সামনে আসে তথ্য পাচারের বিষয়টি।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কাশ্মিরের পুলিশ কর্মকর্তারা গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিত পাকিস্তান থেকে ফোন পাচ্ছেন। যারা ফোন করে, তারা সাধারণত নিজেদেরকে ভারতের অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেয়, তারপর জানতে চায় নিরাপত্তা বাহিনীর গোপন তথ্য। তবে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের পুলিশ কর্মকর্তারা সাধারণত সেইসব তথ্য দেন না এবং যিনি ফোন করেছেন তাকে সঠিক মাধ্যমে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
উল্লেখ্য,পাঠানকোটের সেনাঘাঁটিতে জঙ্গি হামলা এবং পরবর্তীতে হিজবুল নেতা বুরহান ওয়ানিকে কথিত এনকাউন্টারে হত্যার পর থেকেই ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা বাড়তে থাকে। সাম্প্রতিক উরি সেনাঘাঁটিতে জঙ্গি হামলার পর আবারও জয়েশ ই মোহাম্মদের সংশ্লিষ্টতার প্রসঙ্গ তুলে পাকিস্তানকে দায়ী করতে শুরু করে ভারত। পারস্পরিক দোষারোপ এবং এ নিয়ে আন্তর্জাতিক তৎপরতার এক পর্যায়ে ২৮ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাতে নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতের সেনারা সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলোতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর দাবি করে। ওই অভিযানে ৯ পাকিস্তানি সেনা ও ৩৫ থেকে ৪০ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। ঘটনার পর থেকে দুই সেনা সদস্য নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে পাকিস্তান দাবি করে আসছে এটি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ছিল না, সীমান্ত সংঘর্ষ বা আন্তঃসীমান্ত গোলাগুলির ঘটনা ছিল। ঘটনাকে ভারতের দিক থেকে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ প্রমাণ করে তাদের সামরিক শক্তি জানান দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের দাবিটি একটি ভ্রম। মিথ্যে প্রভাব তৈরির জন্য ভারতীয়রা ইচ্ছে করে এমনটা করছে। পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে ভারতের দাবিকৃত ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ এখন যতোটা না জঙ্গিবিরোধী অভিযানের সাফল্য-ব্যর্থতার প্রশ্ন,তার থেকেও বেশি করে ভারত ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্ষমতা-আত্মমর্যাদা আর দম্ভের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *