মেহেরপুরে মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালে ভাঙচুর
মেহেরপুরে মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালে ভাঙচুর

মেহেরপুরে মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালে ভাঙচুর

বিডি নিউজ ৬৪: মেহেরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে হাবিবুর রহমান নামে এ ইমারত নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যুর জের ধরে উত্তেজিত জনতা হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ভাঙচুর করেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। হাবিবুর রহমান মেহেরপুর শহরের চক্রপাড়ার হেব্বত আলীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, মেহেরপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনের একটি বাড়িতে কাজ করছিলেন শ্রমিক হাবিবুর রহমান। এ সময় পানির পাম্পের সুইচ দিতে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। তাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক লিপু সুলতান রোগীর ইসিজি পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। রোগীর মৃত্যু হয়েছে জেনে স্বজনরা লাশ বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর মৃত ঘোষণা করা শরীরটি হঠাৎ নড়ে উঠলে তা আবার হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনরা। এ সময় তাদের সঙ্গে স্থানীয় উত্তেজিত জনতাও হাসপাতালে যান। একপর্যায়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে উত্তেজিত জনতা।

পরে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগে গিয়ে পুনরায় লাশের ইসিজি পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন এবং উত্তেজিত জনতাকে তাঁরা জানান যে আগেই মৃত্যু হয়েছে তার। খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানার ওসি (তদন্ত) মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক লিপু সুলতান বলেন, “ওই রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই পথে মৃত্যু হয়েছে তার। তারপরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য ইসিজি করা হয়। তিনি আরো বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে শরীরের পেশিগুলো জড়ো হয়ে যায়। সেগুলো অনেক সময় মৃত্যুর পরে ছেড়ে গেলে মনে হয় রোগী বেঁচে আছে। সেই ধারণায় তারা পুনরায় লাশ হাসপাতালে নিয়ে আসে।”

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, “জরুরি  বিভাগের চিকিৎসক ইসিজি পরীক্ষার মাধ্যমে রোগীর মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন। তারপরও স্বজনরা রোগী বেঁচে আছেন ভেবে লাশ পুনরায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ভাঙচুর করেছে। তখন পুনরায় ইসিজি করা হলেও সেখানে মৃত দেখা হয়।” তিনি আরো বলেন, “সরকারি সম্পদ ভাঙচুরের ঘটনায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।”

মেহেরপুর সদর থানার ওসি (তদন্ত) মেহেদী হাসান বলেন, “পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। ভাঙচুরের ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করলে আইনি ব্যবস্থ্যা গ্রহণ করা হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *