দ্রুত রোগা হতে সার্জারি
দ্রুত রোগা হতে সার্জারি

দ্রুত রোগা হতে সার্জারি

বিডি নিউজ ৬৪: ওজন কমানোর অনেক চেষ্ঠা করেছেন। ব্যায়াম, জিম, ডায়েট করেও কোনো লাভ হচ্ছে না। এদিকে ভারী দেহ নিয়ে চলাফেরা করতে করতে আপনার অবস্থা কাহিল। মানুষের টিপ্পনী শুনে আর ভাল লাগে না। তাহলে আপনাকে এখন সার্জারি টেবিলে যেতে হবে। একটা সার্জারি করলেই ম্যাজিকের মত কমে যাবে অতিরিক্ত ওজন।

এই সার্জারিকে বলা হয় বেরিয়াট্রিক সার্জারি। এর দ্বারা যে শুধু ওজন কমানো যায় তাই নয়;সেই সাথে আনুষঙ্গিক অসুখও নিমেষে সেরে যায়। বিশেষ করে ওবেসিটির কারণে যারা টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তারা বেরিয়াট্রিকের সঙ্গে আইলিয়্যাল ইন্টারপজিশন করিয়ে নিলে ইনসুলিন, ওষুধের ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবেন। কারণ, অপারেশনের পরেই ব্লাড সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক হয়ে যায়। কমে যায় উচ্চ-রক্তচাপও।

বেরিয়াট্রিক সার্জারি কী?

ওবেসিটি আক্রান্ত রোগী, যারা ডায়েট, এক্সারসাইজ করেও ওজন কমাতে পারছেন না তাদের বেরিয়াট্রিক সার্জারি করে ফ্যাট কমানো হয়। ল্যাপারোস্কোপি পদ্ধতিতে প্রথমে পাকস্থলীর কিছু অংশ কেটে তার খাদ্য ধারণ ক্ষমতা কমিয়ে ক্ষুধা হরমোন বের করে দেওয়া হয়। একে স্লিভ গ্যাসট্রেকটমি বলে। এই অপারেশনের পর অনিয়মিত জীবনযাপন করলে ফের মোটা হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। গ্যাসট্রিক বাইপাস করেও বেরিয়াট্রিক সার্জারি করা যায়। এতে চটজলদি ওজন কমলেও এবং ভবিষ্যতে মোটা হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকলেও খাবার হজমে অসুবিধা এমনকী অপুষ্টিজনিত সমস্যা হতে পারে। তাই স্লিভ গ্যাসট্রেকটমি করিয়ে নিয়মিত শরীরচর্চা ও একটু ডায়েট মেনে চললে পুরো ফিট থাকা যায়। অপারেশনের পর শরীরের বাকি ফ্যাট আস্তে আস্তে শুকিয়ে যায়। কাটিং ও স্ট্রেপলিং পদ্ধতিতে অপারেশন করা হয়। তাই সেলাইয়ের দাগ থাকে না। তবে ওজন কমার পর চামড়া ঝুলে গেলে কসমেটিক সার্জারি করে ত্বক আগের মতো টানটান করা যায়।

গ্যাসট্রিক বেলুন:

বেরিয়াট্রিক সার্জারির একটি অংশ। খুব তাড়াতাড়ি ওজন কমানোর প্রয়োজন থাকলে গ্যাসট্রিক ব্যান্ডিং বা বেলুনিং পদ্ধতিতে সার্জারি করা যায়। এ ক্ষেত্রে পাকস্থলীতে বেলুন ঢুকিয়ে পাকস্থলী ছোট করে দেওয়া হয়। এর ফলে রোগী খাবার কম খেতে পারেন। তিন মাসের মধ্যে প্রায় ২০ কেজি ওজন কমানো যায়। চাকরি বা বিয়ের জন্য দ্রুত রোগা হতে চাইলে এভাবে টেম্পোরারি ওয়েট লস করা যায়। তবে এক বছরের মধ্যে পাকস্থলী থেকে বেলুন করে নেওয়া উচিত। তাই খাওয়া-দাওয়া নিয়ন্ত্রণ বা ব্যায়াম না করলে ফের মোটা হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

 

বেরিয়াট্রিকের পর লাইফস্টাইল:

** সার্জারির পর তিন-চারদিনের মধ্যে রোগী পায়ে হেঁটে বাড়ি যান। রোগীকে প্রথম এক মাস তরল খাবার দেওয়া হয়। তারপর তিন মাস গলা ভাতের মতো অর্ধতরল খাবার খেতে হয়। দিনে দেড় থেকে দু’ঘণ্টা অন্তর খেতে হবে। প্রতিবার ১০০-১৫০ সি.সির বেশি খাওয়া চলবে না। এরপর ধীরে ধীরে নর্মাল খাবার অল্প পরিমাণে খেতে শুরু করা যায়।

** খাবার ইচ্ছা ও ক্ষমতা আগের চেয়ে কমে স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ায় রোগী বেশি খেতে পারেন না। এমনি কোনও খাবারে বারণ নেই। তবে অতিরিক্ত খাওয়া চলবে না। তাহলে গ্যাসট্রিক, বদহজমের সমস্যা হতে পারে। ফাস্টফুড, অতিরিক্ত তেল, মশলার খাবার এড়িয়ে যাওয়াই ভাল। সাঁতার, হাঁটা বা অল্প এক্সারসাইজ করতে হবে।

** ছমাস পর্যন্ত মিনারেল, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি ১২, ভিটামিন বি ৩ সাপ্লিমেন্ট নিতে হয়।

** সার্জারির পর প্রথম মাসে ছয়-সাত কেজি ওজন কমবে। এর পরের ছমাস পর্যন্ত প্রতি মাসে চার-পাঁচ কেজি করে ওজন কমে। অর্থাৎ সাত মাসের মধ্যে রোগীর প্রায় ৪০ কেজি ওজন কমে যায়।

** সার্জারির পর ১৫ দিন বাড়িতে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। তারপর কাজে যোগ দেওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *