বিডি নিউজ ৬৪: ‘গণতন্ত্র বলে কিছু নেই পাকিস্তানে। সেনাই সর্বেসর্বা।’ মেনে নিলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফ। উরি হামলার জবাবে ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে এমনিতেই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে নওয়াজ শরিফের কপালে। ঠিক তখনই ‘পাকিস্তানে গণতন্ত্রের অস্তিত্ব নেই’ বলে ইসলামাবাদকে অস্বস্তিতে ফেললেন তিনি।
ওয়াশিংটনের একটি সভায় যোগ দিয়েছিলেন। সেখানেই এ কথা বলেছেন মোশাররফ। জানিয়েছেন, ‘পাকিস্তানে গণতন্ত্রের পরিবেশ কোনোদিন তৈরিই হয়নি৷ স্বাধীনতার পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে ছেলেখেলা শুরু করে ক্ষমতায় আসীন কিছু লোক। তাই মাঠে নামতে বাধ্য হয় সেনাবাহিনী। তখন থেকেই সেনার প্রাধান্য বাড়তে থাকে।’ তাঁর মতে, ‘দেশে শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সময়ই গলদ ছিল। সংবিধানেও বিশেষ কিছু বলা ছিল না।
গণতন্ত্র জিনিসটা কী, তা বুঝে ওঠার সুযোগই পায়নি মানুষ। প্রশাসনিক ব্যর্থতা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক মন্দার জেরে তিতিবিরক্ত হয়ে সেনার কাছেই হত্যে দিয়ে পড়ে সাধারণ মানুষ। তারপর থেকেই রাজনৈতিক ব্যাপারে নাক গলাতে শুরু করে সেনা।’ দীর্ঘদিন পাকিস্তানের দায়িত্ব সামলেছেন মুশারফ। পাকিস্তানের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, ‘সেনার কাছেই পাকিস্তানবাসীর যত দাবি–দাওয়া। ৪০ বছর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলেছি। দু –দু’টো যুদ্ধ লড়েছি। সবরকমের সাহায্য পেয়েছি। সেজন্য গর্ব অনুভব করি।’
আমেরিকা পাকিস্তানকে ইচ্ছে মতো ব্যবহার করে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে বলে আমেরিকার বিরুদ্ধে অভিযোগও করেছেন মোশাররফ। ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি। রাজদ্রোহ, জরুরি অবস্থা জারি, বেআইনিভাবে বিচারপতি বরখাস্ত, বেনজির ভুট্টোর হত্যা এবং লাল মসজিদ তল্লাশি অভিযান সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মামলা ঝুলছে তাঁর নামে।
এবছর জানুয়ারি মাসেই বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা নবাব আকবর বুগতির হত্যা মামলায় রেহাই পান মোশাররফ। মার্চ মাসে সরকার দেশের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়। তারপরই দেশ ছাড়েন তিনি। দেশে ফেরা নিয়ে মোশাররফ জানিয়েছেন, ‘রাজনৈতিক চক্রান্তে শিকার হয়েছি আমি। ফের ক্ষমতা দখলের ইচ্ছে নেই। দেশের মানুষ ভাল থাকলেই হল। আমার ঘোরাফের ওপর সরকার নিষেধাজ্ঞা না চাপালে ইসলামাবাদ ফিরতে রাজি আছি।’ মানুষের সমর্থন পেলে নতুন রাজনৈতিক দল গড়ে তোলার ইচ্ছে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন মোশাররফ।
সরকারের সমালোচনায় মুখ খুললেও ওসামা বিন লাদেন নিয়ে একটি কথাও বলেননি মোশাররফ। প্রশ্ন করলে বলেন, পাঁচ বছর ধরে অ্যাবোটাবাদে লুকিয়ে ছিল ওসামা, ‘তা আমি জানতামই না।’
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল