বিডি নিউজ ৬৪: যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের হত্যার নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মত দেশেও বাংলাদেশিদের হত্যা করা হচ্ছে, অথচ তাদের সঠিক বিচার হচ্ছে না। আর দেশে যারা নির্বাচনের নামে মানুষ হত্যা করেছে তারাই এখন জঙ্গিবাদকে উস্কানি দিচ্ছে। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার রিজ কার্লর্টনে হোটেলে আওয়ামীলীগ আয়োজিত জন্মদিন উপলক্ষ্যে দলীয় নেতাকর্মি ও প্রবাসীদের উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধ অবস্থান নেয়ার আহাবান জানিয়ে বলেন, যারা জঙ্গিবাদকে মদদ দিচ্ছে তাদের বিচার করা হবে। এর আগে দুপুরে ম্যারিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি এবং নিউ ইয়র্কের আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মিরা একটি শান্তি সমাবেশ করেন। এ সময় তাঁরা শান্তি র্যালী বের করে স্থানীয় সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।
সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের এ অনুষ্ঠানে ছি না তেমন কোন আয়োজন। এমনকি কোন কেক কাটাও হয়নি এ অনুষ্ঠানে। তবুও ম্যারিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি এবং নিউ ইয়র্ক থেকে ছুটে আসেন শত শত নেতা-কর্মি। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন ৮১ সালে দেশে ফেরার পর এই প্রথম কিছুটা অবকাশ সময় কাটাচ্ছেন ভার্জিনিয়ায়। দলের দূর্দিনে ভূমিকা রাখায় জন্য তিনি প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। দেশের ভাবমূর্তি উজ্জলে প্রবাসীদের কাজ করে যাওয়ার আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী। কঠোর ভাবে জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেন শেখ হাসিনা। এ সময় জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর জীবন সংগ্রাম নিয়ে রচিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। সভায় প্রায় ৫০ মিনিট বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তাতে জিয়াউর রহমানকে বঙ্গবন্ধুর খুনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, হত্যা ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসেছিলেন। আর যতদিন ক্ষমতায় ছিলেন, ততোদিন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমেই ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। অপরাধীদের বিচার হচ্ছে। জাতির জনকের হত্যার বিচার হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। জাতীয় চারনেতা হত্যার বিচারসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হবে। স্বাধীন বাংলায় দেশ-বিরোধীদের ঠাঁই হবে না।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ এর সঞ্চালনায় এতে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে সরকার যুগান্তকারী অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের তৃণমূল পর্যায়ে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার অভিপ্রায়ে ৪৫৫০টি ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপন করা হয়েছে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার। তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বিশাল ন্যাশনাল ওয়েব পোর্টাল। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এ পোর্টালের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। দেশের সবগুলো উপজেলাকে আনা হয়েছে ইন্টারনেটের আওতায়। টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বর্তমানে বাংলাদেশে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা ১২ কোটি ৩৭ লাখ এবং ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ৪ কোটি ৪৬ লাখ।
বিদ্যুৎ খাতে আওয়ামী লীগ সরকারের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ৬ হাজার ৩২৩ মেগাওয়াট বিদ্যুত সংযোজন, যার ফলে বিদ্যুতের সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৪৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ২২০ কিলোওয়াট ঘণ্টা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৮ কিলোওয়াটে। নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে ৩৫ লাখ গ্রাহককে। নির্মাণ করা হয়েছে নতুন ৬৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষাখাতে সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষাকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে সরকার শতভাগ ছাত্র-ছাত্রীর মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। নারীশিক্ষা এগিয়ে নিতে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত চালু করা হয়েছে উপবৃত্তি ব্যবস্থা। গরিব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রণয়ন করা হয়েছে শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আইন।
শিশু ও নারীর সার্বিক উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর সার্বিক উন্নয়নে প্রণয়ন করা হয়েছে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা। নারী শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত চালু হয়েছে উপবৃত্তি কার্যক্রম। প্রযুক্তি জগতে নারীদের প্রবেশ সহজ করতে ইউনিয়ন ডিজিটাল কেন্দ্রের মতো ইউনিয়নভিত্তিক তথ্যসেবায় উদ্যোক্তা হিসেবে একজন পুরুষের পাশাপাশি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে একজন নারী উদ্যোক্তাকেও। দেশের ৪০টি জেলার সদর হাসপাতাল এবং ২০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপন করা হয়েছে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল। দুঃস্থ্, এতিম, অসহায় পথ-শিশুদের সার্বিক বিকাশের জন্য স্থাপন করা হয়েছে ১৫টি শিশু বিকাশকেন্দ্র। তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের নারী ও শিশুর উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য জাতিসংঘের সাউথসাউথ, চ্যাম্পিয়ান অব দ্যা আর্থ, ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ফর আইসিটি, প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন ও এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওর্য়াড ইত্যাদি এওয়ার্ডে ভুষিত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছি। তাই পরিবারে তেমন সময় দেওয়া হয় না। ওয়াশিংটনে বসেও প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা করে অফিস করে দেশের জরুরি কাজ করেছি। বাংলাদেশকে জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার সংকল্পে ঝাঁপিয়ে পড়েছি। আমার আর কোনও চাওয়া-পাওয়া নেই। শুধু একটাই আশা, দেশকে সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করা। এ ব্যাপারে আপনাদের সবার সহযোগিতা কামনা করি।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল