বিডি নিউজ ৬৪: সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে কর্মরত অন্তত ১০ জন বাংলাদেশি জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সেখানকার বাংলাদেশের হাইকমিশনার মাহবুব উজ জামান বৃহস্পতিবার বলেন, এ পর্যন্ত যাদের শরীরে জিকা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আমাদের জানিয়েছে।
আসুন জেনে নিই জিকা ভাইরাসের লক্ষণ
* প্রতি পাঁচজন রোগীর মধ্যে একজনের মধ্যে হালকা জ্বর, চোখে লাল হওয়া বা কালশিটে দাগ পড়া, মাথাব্যথা, হাড়ের গিঁটে ব্যথা ও চর্মরোগের লক্ষণ দেখা যায়।
* বিরল ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি গিলিয়ান-ব্যারি সিনড্রোমেও ভুগতে পারেন; এর ফলে সাময়িক পক্ষাঘাত কিংবা ‘নার্ভাস সিস্টেম ডিসঅর্ডারের’ মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
* গর্ভবতী মা মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হলে তার অনাগত শিশুর মাথা স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট হতে পারে, মস্তিষ্কের গঠন থাকতে পারে অপূর্ণ। এ রোগকে বলে মাইক্রোসেফালি।
* এ ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক বা ওষুধ নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিশ্রাম ও বেশি করে তরল খাবার খেতে পরামর্শ দেওয়া হয়।
১৯৪৭ সালে উগান্ডায় প্রথম জিকা ভাইরাস ধরা পড়ে। এতে সচরাচর মৃত্যুর ঘটনা দেখা যায় না। তবে এর লক্ষণও সব সময় স্পষ্ট থাকে না।
তবে কোনো গর্ভবতী নারী জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার গর্ভের শিশু ‘ছোট মাথা’ নিয়ে জন্মাতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় শিশুদের এই অবস্থাকে মাইক্রোসেফালি বলে।
মাতৃগর্ভে থাকার সময় মাইক্রোসেফালি আক্রান্ত শিশুর মস্তিষ্কের গঠন সম্পূর্ণরূপে হয় না। ফলে ওই সব শিশু বুদ্ধিপ্রতিবন্দী, শারীরিক প্রতিবন্ধী এমন কি জন্মের পরপর তার মৃত্যুও হতে পারে।
জিকা ভাইরাস ছোঁয়াচে নয়। তবে যৌন সংসর্গের মাধ্যমে জিকা সংক্রমণের কয়েকটি ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সে ধরা পড়েছে।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল