মীর কাসেম আলীর রায়ের কপি কাশিমপুর কারাগারে

বিডি নিউজ ৬৪: মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর রিভিউ খারিজের রায়ের কপি কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে কাশিমপুর কারাগারে রায়ের কপি পৌঁছায় বলে জানান কারাগারের জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক। এর আগে কেরানিগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে রায়ের কপিগুলো নিয়ে কাশিমপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন কারা কর্মকর্তারা।

আজ বুধবার সকালে কশিমপুর কারাগের কনডেম সেলে বন্দি মীর কাসেমকে রায় পড়ে শুনিয়ে তার কাছে জানতে চাওয়া হবে, তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কিনা। প্রাণভিক্ষা না চাইলে বা চাওয়ার পর আবেদন নাকচ হলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে আর কোনো আইনি বাধা থাকবে না। তখন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেকোনো সময় ফাঁসির রায় কার্যকর করতে পারবে কারা কর্তৃপক্ষ। এর আগে মঙ্গলবার বিকালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ২৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর মীর কাসেমের ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। আপিল বিভাগ থেকে সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে পূর্ণাঙ্গ রায়টি পাঠানো হয় বিচারিক আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।

সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মেহেদী হাসান রায়ের কপি ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসেন। ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার শহীদুল আলম ঝিনুক তা গ্রহণ করেন। এরপর ফাঁসি কার্যকরের জন্য অবহিতপত্র তৈরি করা হয়। রায় ও অবহিতপত্রে স্বাক্ষর করেন ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারপতি। সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে সেগুলো নিয়ে কেরানিগঞ্জ কারাগারের উদ্দেশ্যে রওনা হন ট্রাইব্যুনালের সিনিয়র গবেষণা কর্মকর্তা ফাহিম ফয়সাল। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে লাল ফাইলে কাগজপত্রগুলো কেরানিগঞ্জ কারাগারের ভেতরে পৌঁছে দেন ফাহিম ফয়সাল।

ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার শহীদুল আলম ঝিনুক জানান, এসব কাগজপত্র বুধবার সকালে পাঠানো হবে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় এবং ঢাকার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট (জেলা প্রশাসক) কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কাছে। এর আগে, মঙ্গলবার সকালে ফাঁসির রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে মীর কাসেমের রিভিউ আবেদন খারিজ করে সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে ৫ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও মোহাম্মদ বজলুর রহমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *