রিশা হত্যা মামলায় ওবায়দুল গ্রেপ্তার

বিডি নিউজ ৬৪: রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশা (১৫) হত্যা মামলার আসামি ওবায়দুল খানকে (২৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার সকালে নীলফামারীর ডোমার উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের এডিশনাল এএসপি সার্কেল ফিরোজ আহমেদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার রাতে ওবায়দুলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর বুধবার ভোরে এডিসি আজিমের নেতৃত্বে নীলফামারীর ডোমারে অভিযান চালিয়ে সেখানকার ব্র্যাক অফিসের পেছন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে এখন ঢাকায় নিয়ে আসা হচ্ছে। ডোমার থানার ওসি রাজিউর রহমান রাজু জানান, মঙ্গলবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ওবায়দুলের বোন খাজিদা বেগম এবং ভগ্নিপতি খাদেমুল ইসলামকে আটক করেছে। রিশার মারা যাওয়ার পরপর তার পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়িতে তালা দিয়ে পালিয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মিরাটঙ্গী গ্রামে যাওয়া হলে তার বাড়িতে তালা ঝোলানো দেখা যায়। এলাকাবাসী জানায়, প্রায় ৫ বছর আগে তার বাবা মারা গেছে। বাড়িতে থাকতো তার সৎ মা আখেলিমা, সৎ ভাই কালু ও আতিকুল। তবে তারাও এখানে সবসময় থাকতেন না। গত সোমবার দুপুরে স্থানীয় লাটের বাজারে তাকে অনেকেই দেখেছেন। কিন্তু তখন পর্যন্ত বিষয়টি কেউ আঁচ করতে পারেনি। সোমবার রাতে পুলিশের অভিযানের পর বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়ে। তবে তার আগেই সটকে পড়েছে ওবাইদুল।পরিবারের বাকি সদস্যরা বাড়িতে তালা দিয়ে পালিয়েছে।

এর আগে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে রাজধানীর কাকরাইলে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশা গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে বুধবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। টানা চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার সকালে সে মারা যায়। এ ঘটনায় রিশার মা তানিয়া হোসেন বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। রিশার বাবার নাম মো. রমজান আলী। তিনি একজন ক্যাবল ব্যবসায়ী। রাজধানীর বংশালে তাদের বসবাস।

রিশার মা তানিয়া হোসেন জানান, ৫-৬ মাস আগে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থিত ইস্টার্ন মল্লিকা শপিং মলে বৈশাখী টেইলার্স নামে একটি টেইলার দোকানে জামা বানাতে দেয় রিশা। ওই সময় তার মোবাইল নম্বরটিও দেয়া হয়। এরপর থেকে ওই টেইলার্সের কাটিং মাস্টার ওবায়দুল তার মেয়েকে প্রায়ই ফোন করে উত্ত্যক্ত করত। পরে বাধ্য হয়ে ফোনের ওই সিমটি বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর স্কুলে যাওয়া আসার পথে প্রায়ই ওই কাটিং মাস্টার তার মেয়েকে বিরক্ত করত। স্কুলের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *