আমার দাম্পত্য জীবনে গোপন বলতে কিছুই নেই!

বিডি নিউজ ৬৪:

প্রশ্ন : আমি একজন কর্মজীবী নারী। ২২ মাস আগে আমার বিয়ে হয়েছে। কিন্তু এই অল্প সময়ের মধ্যেই আমি এমন সব সমস্যার মু্খোমুখি হয়েছি যার ফলে বেশির ভাগ সময়ই আমি মানসিকভাবে উত্তেজিত থাকি।

আমার স্বামীর বয়স ৩৫। আর আমার বয়স ৩০। তিনি খুবই অপিরপক্ক লোক। আমাদের দাম্পত্য জীবনের খুঁটিনাটি প্রতিটি বিষয় তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বলে বেড়ান। তিনি ছোটখাটো বিষয় নিয়েও আমার সঙ্গে সারাক্ষণ ঝগড়া করেন। এমনকি সেগুলো তারা বাবা-মার সঙ্গেও বলেন।

আর এ কারণে শ্বশুর বাড়ির লোকজনও সব কিছুর জন্য আমাকেই দায়ী করেন। আমার ধারণা আমার স্বামীর কোনো ধরনের মানসিক সমস্যা আছে। তিনি সবকিছুতেই অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এবং সহজেই খুব বেশি রেগে যান। নিজেকে সব সময় ঠিক বলে মনে করেন এবং কখনোই নিজের দোষ স্বীকার করেন না। এ কারণে আমরা এখন মনে হচ্ছে বিচ্ছেদের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি।

তিনি কোনো কারণ ছাড়াই আমাকে দোষারোপ করেন। এমনকি টিভি রিমোটটি খুঁজে না পেলেও তিনি আমাকেই দোষারোপ করেন।

ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই আমার পেটে ব্যথা শুরু হয়। ওই সময়টাতে আমি তার সঙ্গে যৌনমিলন করতে পারি না। আমি তাকে বিষয়টি গুগলেও অনুসন্ধান করে দেখতে বলেছি। কিন্তু তিনি আমার কথা বিশ্বাস করেন না। এমনকি বিষয়টি নিয়ে আমার ভাইসহ সকলের সঙ্গেই কথা বলেছেন। এমনকি তিনি আমাকে গাইনি বিশেষজ্ঞ, মেয়েলি সমস্যার চিকিৎসক ও মনোচিকিৎসকের কাছেও নিয়ে যেতে চাইছেন। আমি কী করব?

উত্তর : আপনার এ সমস্যাগুলো হলো পারস্পরিক সমঝোতা ও বোঝাপড়ার ঘাটতিসংক্রান্ত। বিয়ের প্রথম কয়েক বছর এসব সমস্যা হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। আর বাংলাদেশের মতো দেশে দাম্পত্য জীবনে কোনো সংকট দেখা দিলে পরিবারের মধ্যস্থতায়ই তার সমাধানের চেষ্টা সচরাচর একটি বিষয়। তবে আপনার এ দাবিও ঠিক যে স্বামী-স্ত্রীর একান্ত গোপনীয় বিষয়গুলো নিয়ে অন্য কারো সঙ্গে আলোচনা না করাই ভালো।

আপনার স্বামীর যদি রাগ সমস্যা থেকে থাকে তাহলে এর উৎপত্তিজনিত কারণটা জানা জরুরি। যদি এমন হয় যে, তিনি শুধু আপনার সঙ্গেই সংঘাতে লিপ্ত হচ্ছেন তাহলে আপনি নিজের প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারেও এখনই সতর্ক হন।

তার সঙ্গে আপনার যোগাযোগের ধরনে পরিবর্তন আনুন। এর মাধ্যমে হয়ত আপনি সমস্যাটির সমাধান করতে পারবেন। তার দুর্বলতাগুলো নিয়ে তাকে কটাক্ষ না করে বরং আপনি তার শক্তির দিকগুলো নিয়ে প্রশংসা করুন। এতে হয়ত আপনার প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধ বাড়বে।

এভাবে হয়ত আপনি তার সঙ্গে আরো ভালো যোগাযোগ গড়ে তুলতে পারবেন। এবং তাকে বুঝাতে সক্ষম হবেন আপনাদের কোন বিষয়গুলো পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বলতে হবে আর কোন বিষয়গুলো বলতে হবে না। এতেও যদি কাজ না হয় তাহলে আপনাদের দুজনরই উচিত বৈবাহিক থেরাপি নেওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *