দর্শকরা মিস করবেন দিলশানকে

বিডি নিউজ ৬৪: শ্রীলঙ্কার যে কয়জন শৈল্পিক ক্রিকেটার ছিলেন তার মধ্যে তিনি অন্যতম। তার তেড়েফুঁড়ে ব্যাট চালনার মধ্যে থাকত অসাধারণ শিল্প আর সৌন্দর্য। তার খুনে ব্যাটিংয়ের কারণে প্রতিপক্ষ বোলারের হাঁটুতে কাঁপুনি শুরু হয়ে যেত। দিলশান ক্রিজে আছেন মানেই রানের চাকা সচল থাকবে। সেই দিলশান এখন সাবেক। টেস্ট থেকে তিন বছর আগেই অবসর নিয়েছিলেন। গতকাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সীমিত ওভারের ক্রিকেটকে বিদায় জানান দিলশান।

রবিবার ডাম্বুলায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সতীর্থদের মুখ ভার। স্তব্ধ স্টেডিয়াম ভর্তি দর্শক। টেলিভিশন ক্যামেরায় কত কান্নার ছবি ছুঁয়ে গেল টিভির সামনে বসে থাকা দর্শকদেরকেও। ক্রিকেটবিশ্বে দিলশানের ভক্তের তো কোন অভাব নেই। রানাতুঙ্গা, মুরালি, ডি-সিলভা, জয়সুরিয়া, জয়াবর্ধনে কিংবা সাঙ্গাকারার মত দিলশানও বিশ্ব ক্রিকেটকে দেওয়া শ্রীলঙ্কার এক অনন্য উপহার। ১৭ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ৮৭ টেস্টে ৫৪৯২, ৩২৯ ওয়ানডেতে ১০২৯০ ও ৭৮ টুয়েন্টি টুয়েন্টি ম্যাচে ১৮৮৪ রান করেন দিলশান। ওয়ানডেতে সর্বমোট রানের ক্ষেত্রে বিশ্বের মধ্যে ১১তমস্থানে রয়েছেন তিনি। আর শ্রীলংকার মধ্যে চতুর্থ স্থানে আছেন ৩৯ বছর বয়সী দিলশান।

বিদায়বেলায় বললেন, “আমি গর্বিত শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটকে কিছু দিতে পেরে।”

কিন্তু দিলশান কি পারতেন না আরও কিছুদিন সীমিত ওভারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে?

জবাবে দিলশান বললেন, “আমি কিছুদিন আগে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেমনটা নিয়েছিলাম টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সময়। একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠলাম। তারপর মনে হলো আমার অবসর নেওয়ার সময় হয়েছে। আমার মতে, ক্যারিয়ারের সঠিক সময়ে এসেই আমি অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

১৭ বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ইতি টানার পেছনে কি অন্য কোনো কারণ ছিল? কোনো মনোঃকষ্ট? একটা কষ্টের কথা অবশ্য বলেছেন তবে সেটা তো আরও চার বছর আগের কথা। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের দুঃসময়ে ২০১১ সালের এপ্রিল থেকে ২০১২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন দিলশান। সেই সময়টুকুতে নাকি সতীর্থদের কাছে কোন সহযোগিতা পাননি!

তবে এটা অবসরের পেছনে কোনো কারণ নয় বলে দৃঢ়ভাবে মন্তব্য করে দিলশান বলেন, “আমি আমার স্ত্রী, আমার পরিবারের সঙ্গে অবসরের বিষয়ে কথা বলেছি। তাদেরকেও তো আমার সময় দেওয়া উচিৎ। তাই অন্তত আগামী ছয়মাস আমি ক্রিকেট থেকে দূরে থাকব এবং পরিবারকে সময় দেব। তারপর কী করব সেটা তখন সিদ্ধান্ত নেব।”

শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট সম্পর্কে দিলশান একটু মজা করে বলেন, “আমার মতো বুড়োরা যদি সরে না যায় তবে তরুণরা কীভাবে সুযোগ পাবে। আমি ভবিষ্যতবাণী করছি, এই তরুণ দলটি আমাদের ক্রিকেটকে অনেকদূর নিয়ে যাবে।”

আর ভাল ক্রিকেটের পূর্বশর্ত হিসেবে কোন জিনিসটাকে নিজের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন দিলশান? উত্তরে জানা গেল, প্র্যাকটিস, প্র্যাকটিস এবং প্র্যাকটিস। দিলশান বললেন, “১৯৯৯ সালে আমি যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে নামি তখন আমিও তারকা ছিলাম। কিন্তু তারকাখ্যাতি কখনও আমাকে গ্রাস করতে পারেনি। আমি প্রতিনিয়ত পরিশ্রম করতাম। একসময় দলে বোলার হিসেবেও অবদান রাখতে শুরু করি। এছাড়া যে কোনো ভাবে দলে অবদান রাখার চেষ্ঠা করতাম। আমার কাছে দলটাই বড় ছিল। তাই তরুনদের প্রতি আমার পরামর্শ হলো, তারকাখ্যাতি যেন গ্রাস না করে।”

দিলশান মিস করবেন ক্রিকেট মাঠকে। এই তেড়েফুঁড়ে ব্যাট চালানোর টি-টোয়েন্টির যুগে হাতে গোনা কয়েকজন ক্রিকেট শিল্পীর একজন ছিলেন তিনি। তাই ক্রিকেটবিশ্বের দর্শকরা মিস করবেন দিলশানকে। এটাই তো বিদায় নেওয়ার শ্রেষ্ঠ সময়। দিলশান শুধু শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটকেই দেননি; বিশ্ব ক্রিকেটকেও দিয়েছেন অনেক কিছু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *