বিডি নিউজ ৬৪: মেয়ে হয়েছিল। তাই স্ত্রী ও সদ্যোজাত কন্যাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন বাবা। অথচ মেয়ের পরিচয়ই আজ বাবার পরিচয়। শুধু তাই নয়, ভারতের আওরাইয়া জেলার কাঞ্চন আজ অন্য মেয়েদেরও অনুপ্রেরণা। কাঞ্চনকে সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন আওরাইয়ার জেলাশাসক মালা শ্রীবাস্তব। যাঁর সাহায্যে কাঞ্চন আজ আইনের এক কৃতী ছাত্রী।
আওরাইয়ার ভর্থনা এলাকার সামো পুঠিয়া গ্রামের বাসিন্দা কৃষক হরনাথ সিং দৌহরের মেয়ে কাঞ্চন। জানা গেছে, জন্মের পাঁচদিন পরে স্ত্রী ও মেয়েকে বাড়ি থেকে বের করে দেন হরনাথ। বাড়ি থেকে বিতাড়িত কাঞ্চন ও তাঁর মা মামাবাড়িতেই মানুষ। মামা, দাদুই তাঁর লেখাপড়ার ব্যবস্থা করেন। মামার বাড়ি বিরিয়া গ্রামে প্রাথমিক স্কুলে পড়াশোনা শুরু হয় কাঞ্চনের। মেধাবি ছাত্রী কাঞ্চন পরীক্ষায় ভালো নম্বরও পান। ২০১৪ সালে স্নাতক পাশ করার পরই সমস্যায় পড়েন তিনি। আইনশাস্ত্র নিয়ে পড়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর। কিন্তু, অত টাকা খরচ করার মত টাকা ছিল না দাদুর।
তাঁর পাশে দাঁড়ায় আওরাইয়ার জেলাশাসক মালা শ্রীবাস্তব। অ্যাডমিশনের জন্য টাকা ছিল না কাঞ্চনের। জেলাশাসক মালা শ্রীবাস্তব নিজে উদ্যোগ নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। গরিবদের জন্য সরকারের চালু করা যোজনা পেতে কথা বলেন মালাদেবী। জেলাশাসকের পরিশ্রম বিফলে যায়নি। ভালোভাবেই উত্তীর্ণ হয়েছেন কাঞ্চন। পুরষ্কার পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও।
নিজের অতীত জীবন থেকে শিক্ষা নিয়েছেন কাঞ্চন। জানিয়েছেন, “মেয়ে হওয়ার জন্য মা ও আমাকে এই সাজা পেতে হয়েছে।” এখন অবশ্য জেদটাও চেপে বসেছে তাঁর। পণ করেছেন নিজেকে প্রমাণ করবেন। যা ভবিষ্যতে অন্য মেয়েদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল