গাংনীর ভাটপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ক্লাস বর্জন

বিডি নিউজ ৬৪: দুই মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস বিলে স্বাক্ষর না করা, বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষক স্কুলের দায়িত্ব বুঝে না দেওয়াসহ নানা অনিয়মের প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন করেছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ভাটপাড়া (কুঠি) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

গতকাল রবিবার থেকে শিক্ষকরা ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করছেন। সুষ্ঠু  সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কোনো ক্লাসে অংশ নেবেন না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন শিক্ষকরা। আজ সোমবার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তাঁদের দাবি পূরণ করার আশ্বাস দিলেও তাঁরা ক্লাস বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন।

শিক্ষকরা জানান, দুর্নীতি ও স্কুলের অর্থ আত্মসাতসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে আলোচিত প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান অন্তত চারবার বহিষ্কৃত হয়েছেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর হাবিবুল বাশারের ইন্ধনে প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতি করে পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে তাঁরা অভিযোগ করেন। তাঁরা আরো জানান, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশ মোতাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষককের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করলে তাঁদের বেতন বোনাস বিলে সাক্ষর হত। ফলে বেতন ও বোনাস বিলে স্বাক্ষর না হওয়ায় ঈদের আগে বেতন ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বেতন ভাতা না পেয়ে তাঁরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এসব কারণে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন তাঁরা।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম জানান, গত ১৩ আগস্ট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রধান শিক্ষক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তাঁকে এখন পর্যন্ত দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি। দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়ায় এবং প্রধান শিক্ষক বহিষ্কৃত থাকায় শিক্ষকদের গত জুলাই ও চলতি আগস্ট মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস বিলে সাক্ষর করা সম্ভব হয়নি। ফলে শিক্ষকদের বেতন ও ঈদ বোনাস পাওয়া নিয়ে অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে। এর প্রতিবাদে শিক্ষকরা ক্লাস নেওয়া থেকে বিরত রয়েছেন।

সহকারী প্রধান শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম আরো বলেন, “গত ২৪ মে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচিত সদস্যরা প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমানের সমর্থিত না হওয়ায় কমিটি গঠনের কোনো সভা এখন পর্যন্ত আহ্বান করেননি। ফলে কোনো কমিটি নাই। জেলা শিক্ষা  কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানালে তিনি ঘটনাস্থলে না এসে লিখিত অভিযোগ করার কথা বলেছেন। আমরা লিখিতভাবেই তাঁকে জানাব।”

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাঁকে কেন বহিষ্কার করা হয়েছে তা জানতে তিনি যশোর শিক্ষা বোর্ডে অবস্থান করছেন। স্কুলে ক্লাস না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “এটা আমার জানা নাই।” মৌখিকভাবে সহকারী প্রধান শিক্ষককে দায়িত্ব দিয়েছেন বলে তিনি জানান। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে সহকারী প্রধান শিক্ষকদের দায়িত্ব বুঝে দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আইন নিয়ে  ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে সেটা সমাধান করতেই তিনি বোর্ডে গিয়েছেন বলে জানান।”

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র গোলদার বলেন, “প্রধান শিক্ষক বহিষ্কৃত থাকায় শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশ মোতাবেক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান শিক্ষককের কাছে থেকে দায়িত্ব বুঝে নিয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা  সেই দায়িত্ব পালন না করে ঢাকায় একটি সেমিনারে অংশগ্রহণের জন্য চলে গেছেন।” এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিউদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান। ক্লাস বর্জনের বিষয়ে তিনি জানান, শিক্ষকদের ক্লাস বর্জন করাটা খুবই দুঃখজনক। খবর পেয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন ক্লাস নেওয়ার ব্যাপারে। এ বিষয়ে তাঁরা লিখিত অভিযোগ করার পর যদি তাঁরা কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে থাকেন তখন তাঁরা ক্লাস বর্জন কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারতেন। ক্লাস বর্জন করা শিক্ষকদের ঠিক হয়নি বলে জানান তিনি।

আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফোন করেছিলেন। তারপরও শিক্ষকরা ক্লাস নিচ্ছেন না।” শিক্ষকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, “শিক্ষা কর্মকর্তা মোবাইল ফোনে অভিযোগ নিতে না পারেন তবে কেন মোবাইল ফোনে ক্লাস নেওয়ার নির্দেশ দেবেন?”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *