বিডি নিউজ ৬৪: বৈরী আবহাওয়ার জন্য দেশের অন্যতম নৌরুট মাদারীপুরের কাওড়াকান্দি-শিমুলিয়া নৌরুট প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। আজ রবিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত বন্ধ থাকার পর ফেরি, লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল স্বাভাবিক হয়। এর ফলে উভয় পাড়ে যানজটের সৃষ্টি হয় এবং দুর্ভোগে পড়ে এই রুটে চলাচলকারী দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চালের ২১ জেলার যাত্রীরা।
মাদারীপুরের কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মো. সালাম মিয়া জানান, বৈরী আবহাওয়া জন্য সকাল থেকে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকলেও দুপুর থেকে ১৭টি ফেরির মধ্যে ১১টি ফেরি চলাচল শুরু করেছে। এছাড়া পদ্মায় নাব্যতা সংকটের কারণে দেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কাওড়াকান্দি-শিমুলিয়া নৌরুটে যে কোন মুহূর্তে ফেরি চলাচল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নাব্যতা সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করায় নৌ-চ্যানেলের লৌহজং টার্নিংয়ে চলছে ড্রেজিং। বিআইডব্লিউটিএ’র পৃথক ৭টি ড্রেজারের মাধ্যমে পদ্মা নদীতে নাব্যতা সংকট নিরসনে পলি অপসারণের কাজ চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উজানের সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে পলি এসে জমে পদ্মায় এ নাব্যতা সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের শেষ দিকে নৌরুটে নাব্যতা সংকট দেখা দেয়। তবে চলতি বছর প্রকট আকারে রুপ নিয়েছে নাব্যতা সংকট। এ কারণে গত ৭ দিন ধরে এ রুটের ৪টি রো-রো ফেরিগুলো বন্ধ রয়েছে। তবে নৌরুটে সচল থাকা ১১টি ফেরির সবগুলো যাত্রীসহ কম যানবাহন বোঝাই করে চলাচল করছে। কেননা লৌহজং টার্নিয়ে নাব্যতা সংকটের কবলে ফেরিগুলো ডুবোচরে আটকে যাচ্ছে।
এদিকে, পদ্মার পানি কমতে শুরু করেছে। কাজেই নাব্যতা সংকট অচিরেই দূর না হলে যেকোনো সময়ে নৌরুটে সব গুলো ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) গিয়াসউদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, নৌ-চ্যানেলের লৌহজং টার্নিংয়ে এখন পানি বইছে মাত্র ৬ ফুট উপর দিয়ে। স্বাভাবিক ফেরি চলাচল করতে হলে কমপক্ষে ৭ ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহের দরকার।
রো-রো ফেরি শাহ-আলীর মাস্টার এবিএম ফারুক বলেন, নাব্যতা সংকটের মুখে আমরা ফেরি চালাতে পারছি না। ফেরির তলা আটকে যাচ্ছে নদীর তলদেশে। সঠিকভাবে ড্রেজিং না করলে চলাচল করা সম্ভব নয়।
বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিউল্লাহ বলেন, সঠিক সময়ে ড্রেজিং করতে পারলে এরই মধ্যে নাব্যতা সংকট নিরসন হত। কিন্তু উজানের পানি, বন্যা ও তীব্র স্রোত আমাদের ড্রেজারগুলোকে সঠিকভাবে কাজ করতে দিচ্ছে না। এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার ড্রেজার গুলোর দঁড়ি ছিঁড়ে গেছে। আর দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে হঠাৎ করেই চ্যানেলের মুখে ডুবোচর দেখা দেয়। সঠিকভাবে ড্রেজিং কাজ শেষ করতে পারলে আর কয়েকদিনের মধ্যেই নাব্যতা সংকট দূর করা যাবে।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল