নারায়ণগঞ্জে নিহত আরেকজনের পরিচয় মিলেছে

বিডি নিউজ ৬৪: জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নারায়ণগঞ্জে নিহত একজনের ছবি দেখে তাকে নিজের ছেলে বলে দাবি করেছেন যশোর সদর উপজেলার কাজী হাবিবুল্লাহ। হাবিবুল্লাহর বাড়ি সদর উপজেলার কিসমত নোয়াপাড়া গ্রামে। আজ রবিবার সকালে নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের কাছ থেকে ছবি দেখে হাবিবুল্লাহ তার ছেলেকে শনাক্ত করেন।

হাবিবুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, “ছবিতে যাকে দেখা যাচ্ছে, সে আমারই ছেলে। আমরা লাশ নিতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করব।” হাবিবুল্লাহ জানান, আজ সকালে গোয়েন্দা সংস্থার দুজন কর্মকর্তা তার বাড়িতে এসেছিলেন। তারা বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে চলে গেছেন।

নারায়ণগঞ্জে নিহত জঙ্গিদের মধ্যে কিসমত নোয়াপাড়ার রাব্বি আছেন কি না- এমন প্রশ্নে যশোরের সহকারী পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা বলেন, “আমরা এখনও শতভাগ নিশ্চিত না। তবে আমাদের কাছে যে ধরনের তথ্য আছে, তাতে সে রকমই মনে হচ্ছে।”

গতকাল শনিবার নারায়ণগঞ্জে জঙ্গিবিরোধী অভিযান হয়। অভিযান শেষে পুলিশ জানায়, তিন জঙ্গি নিহত হয়েছেন। তাদের একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরী। তিনিই গুলশানে হামলার সমন্বয়ক বা মাস্টারমাইন্ড।
নিহত বাকি দুই জঙ্গির পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক আজ এক ব্রিফিংয়ে বলেন, তামিম ছাড়া নিহত বাকি দুই জঙ্গির পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁদের ব্যাপারে বিভিন্ন তথ্য আসছে। কিন্তু এসব তথ্যের বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত নয়।

তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানায়, বাকি দুই জঙ্গি হলেন তাওসিফ হোসেন ও ফজলে রাব্বি। তাওসিফের বাসা ঢাকার ধানমণ্ডিতে। গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার রামচন্দ্রপুরে। রাব্বির বাড়ি যশোর সদর উপজেলার কিসমত নোয়াপাড়ায়।

কিসমত নোয়াপাড়ার রাব্বি যশোরের এমএম কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন বলে পরিবারের ভাষ্য। গত এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি।
পরিবারের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার আগে রাব্বি তার ভর্তি বাতিল করে কলেজ থেকে সব কাগজপত্র তুলে নেন। এ বিষয়ে রাব্বির বাবা হাবিবুল্লাহ গত ৭ এপ্রিল যশোরের কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। রাব্বির নিখোঁজের বিষয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়।

স্বজনদের ভাষ্য, গত ৫ এপ্রিল সকালে কলেজে যাওয়ার কথা বলে রাব্বি বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় তাঁর পিঠে একটি ঝোলানো ব্যাগ ছিল। ব্যাগে জামা-কাপড় ছিল। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি তিনি।

কিসমত নোয়াপাড়ার কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, রাব্বি এলাকার কারও সঙ্গে তেমন মিশতেন না। তবে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমামের সঙ্গে তাঁর সখ্য ছিল। সম্প্রতি যশোরের পুলিশ পাঁচ ব্যক্তিকে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে শহরে পোস্টার লাগায়। ওই পাঁচজনের একজন ছিলেন রাব্বি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *