ইংল্যান্ডের বাংলা সফর, অস্ট্রেলিয়াকে জবাব!

বাংলাদেশের ক্রিকেট যখন স্বপ্নের সময় কেবলই ছুঁয়ে দেখছিল, ঠিক তখনই নিরাপত্তার ইস্যুতে এক ঘরে হয়ে যাওয়ার শঙ্কা-মেঘ ভর করে আকাশে। দিন যত যাচ্ছিল, সেই শঙ্কা ক্রমশই বাড়ছিল। তবে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ ইংল্যান্ড তার পূর্ব নির্ধারিত সূচিতে বাংলাদেশে আসতে সম্মত হয়েছে; যাতে অন্তত কালো মেঘই দূর হচ্ছে না অনেক প্রশ্নের একটা জবাবও দিতে পারছে বাংলাদেশ। এছাড়া ব্রিটিশদের খেলতে আসা অস্ট্রেলিয়াকে একটা জবাবও বটে, এমন মতও অনেক ক্রিকেট পাগল বাঙালির।

গত বছর অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল বাংলাদেশ সফর স্থগিত করেছিল। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতেও আয়োজক বাংলাদেশে টিম পাঠায়নি অজিরা। এরপর থেকে বাংলাদেশের সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ব্লগ, পত্র-পত্রিকা ও অনলাইনে প্রকাশ করেছেন তাদের ক্ষোভ। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের পর এই প্রতিবাদে আরও লাগে হাওয়া। এতে উঠে আসে- বড় বড় হামলা যেখানে হয়, সেখানে খেলা ঠিকই চলতে পারে, আর ছোট্ট এক হামলাতেই সব দোষ বাংলাদেশের! ২০১৫ সালের নভেম্বরে ফ্রান্সের প্যারিসে ভয়াবহ হামলা চালায় আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। তার আট মাসের মাথায় ফুটবলের জনপ্রিয় আসর ইউরো কাপ তো সফলভাবেই শেষ করলো দেশটি। তবে কেন বাংলাদেশে এলো না অজিরা!

তবে এবার ইংল্যান্ড দল তাদের প্রতিনিধি পাঠিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সে মোতাবেক এলো সবুজ সংকেতও। তবে ইংল্যান্ডে ক্রিকেট বোর্ড স্বাধীনতা দিয়ে রেখেছে খেলোয়াড়দের, ব্যক্তিগতভাবে কোনো ক্রিকেটার চাইলে সরে দাঁড়াতে পারবেন বাংলাদেশ সফরের স্কোয়াড থেকে। এতে হয়তো দু’একজন তারকা খেলোয়াড়ের সাক্ষাৎ নাও পেতে পারে বাংলাদেশি সমর্থকরা তবুও দেশের মাটিতে তো ফিরছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। খেলা হচ্ছে ফের, কাটছে মন্দা- এটাই তো বড় কথা!

এসব বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক ধারাভাষ্যকার, সাবেক ক্রিকেটার আতাহার আলী খান বাংলানিউজকে বলেন, অনেক বেশি বিশ্বাস তারা আমাদের করেছে। এখন আমাদের সেই বিশ্বাস অর্জন করে প্রমাণ করতে হবে যে বাংলাদেশে পুরোদমে ক্রিকেট খেলা হতে পারে।

তাদের খেলতে আসার সংবাদটি স্বস্তির জানিয়ে আতাহার বলেন, অনেক বেশি আনন্দের সংবাদ এটি। আমরা চাই এই আনন্দকে ধরে রাখতে। আর নিরপত্তা ইস্যুতে খেলাধুলা কোনোভাবেই বন্ধ থাকতে পারে না।

তবে তিনি নিরাপত্তার ইস্যুকেও গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কোনো দেশের প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রী এলে যেমন কড়া নিরাপত্তা দেওয়া হয়; তেমনই নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে ইংল্যান্ড সফরে। তাদের প্রতিটি ক্রিকেটার-টিম ম্যানেজমেন্টকে কড়া নিরাপত্তা দেওয়া হবে। এ জন্য বিসিবি প্রস্তুত বলেই আমি জানি। এটা একটা বিশাল দায়িত্ব, যে দায়িত্ব নেওয়ার জন্যই আমরা অস্ট্রেলিয়া সফরের আগ থেকে বলে যাচ্ছিলাম। এবার অন্তত তা পালন করে নিরাপত্তা ইস্যুতে আমাদের জবাব দিতে পারবো।

বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্তে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ডকে (ইসিবি) ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। ইতোপূর্বে সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে ইসিবিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *