বিডি নিউজ ৬৪: ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিলকারত্নে দিলশান। শ্রীলঙ্কার ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার রবিবার খেলবেন তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের শেষ ওয়ানডে। ডাম্বুলায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। আর ৯ সেপ্টেম্বর শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি খেলবেন কলম্বোতে। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়াই।
শ্রীলঙ্কার নির্বাচকরা দিলশানের কারণে আসলে চাপেই ছিলেন। ২০১৯ বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে দল গোছাতে চান তারা। কিন্তু প্রধান নির্বাচক সনাত জয়াসুরিয়া ও তার কমিটি চাইলেই দিলশানকে বাদ দিতে পারছিলেন না। শেষ কয়েক বছরে তার পারফরম্যান্স অসাধারণ। ২০১৩’র শুরু থেকে ওয়ানডেতে তার গড় ৪৯.১৮। ২০১৫ সালে সবচেয়ে সফল ওয়ানডে ক্রিকেটার। ৫২.৪৭ গড়ে করেছিলেন ১২০৭ রান। শেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও দলের সেরা রান স্কোরার তিনি। এবং অন্যতম সেরা ফিল্ডারও দিলশান।
কিছুদিন আগের শ্রীলঙ্কা সফর তিনি ব্যক্তিগত কারণে মিস করেছেন। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলে অবসরে যাওয়ার ব্যাপারে অনিচ্ছা ছিল। কিন্তু প্রথম দুই ম্যাচে ২২ ও ১০ রান করার পর মন বদলেছেন দিলশান। শ্রীলঙ্কা দলে দিলশানের জায়গায় ওপেন করার মতো ব্যাটসম্যান তৈরি। এমন তিনজন আছেন সাম্প্রতিক দলেই।
সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ধারবাহিক পারফর্মার দিলশান। বয়সের ছাপ পড়েনি তার খেলায়। ১৯৯৯ সালে অভিষেকের পর প্রায় এক দশক লোয়ার অর্ডারে ব্যাট করেছেন। কিন্তু ২০০৯ থেকে নিয়মিত ওপেন করেন। এবং চার মৌসুমে হাজারের বেশি রান ওয়ানডেতে। সেই থেকে ২০১৫ পর্যন্ত কখনো বছরে ৮০০ এর কম রান করেননি। জয়াসুরিয়া, কুমার সাঙ্গাকারা ও মাহেলা জয়াবর্ধনের পর শ্রীলঙ্কার চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে দিলশান ১০,০০০ রান করেছেন।
টি-টোয়েন্টিতে বৈশ্বিক তারকা এখনো। ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন। ফাইনালে খেলে শ্রীলঙ্কা। এরপর আরো দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছেন। একটিতে শিরোপা জিতেছেন। তির ফরম্যাটেই সেঞ্চুরি আছে তার। ২০১১ সালে টি-টোয়েন্টিতে নিজের একমাত্র সেঞ্চুরিটি করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ‘দিলস্কুপ’ শটের স্রষ্টা তিনি। ২০১০ এর মে থেকে ২০১২ এর জানুয়ারি পর্যন্ত সব ফরম্যাটেই শ্রীলঙ্কাকে নেতৃত্ব দিয়েছেন দিলশান। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে কাজে লাগার মতো বোরঅরও তিনি। অফস্পিনে ১০৬টি ওয়ানডে উইকেট আছে।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল