বিডি নিউজ ৬৪: যখন নারীদের পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যায় তখনই তারা মেনোপজে উপনীত হন। সাধারণত ৪৫-৫৫ বছর বয়সে সব নারী মেনোপজে পৌঁছান। এ সময় নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। সাধারণত হরমোনাল রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির (এইচআরটি) মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে এই চিকিৎসা যে শতভাগ কাজ করবে তার নিশ্চয়তা নেই।
ইউনিভার্সিটি অব পিটার্সবার্গের বড় পরিসরের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, রাতে ঘেমে ওঠা, ত্বকে লালচে র্যাশ ওঠাসহ নানা লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। সাধারণত জাতিভেদে ভিন্ন লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। এ ছাড়া ওজন ও জীবনযাপনের কারণেও লক্ষণ প্রকাশে ভিন্নতা দেখা দিতে পারে।
কিন্তু মেনোপজ নিয়ে নারীদের মাঝে নানা ভুল ধারণা কাজ করে। সচেতনতার অভাবও রয়েছে। ব্রিটিশ মেনোপজ সোসাইটি জানায়, জীবনের এই স্তরে এসে অর্ধেকের বেশি নারী চিকিৎসকের কাছে যান না। এ সমস্যা তাদের কাছে বেশ অস্বস্তিকর। মাত্র ৩ শতাংশ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড কেয়ার এক্সেলেন্স-এর নির্দেশনা সম্পর্কে ধারণা রাখেন।
তাই সকল নারীর মেনোপজ সম্পর্কে কিছু মৌলিক ধারণা রাখা উচিত। এখানে তাই জানিয়েছেন ব্রিটেনের কিং এডওয়ার্ড সপ্তম হসপিটালের বিশেষজ্ঞ ড. জাস্টিন শ্যাচেল।
এইচআরটি নিয়ে যত প্রশ্ন : এই চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিচার্স এক গবেষণায় জানায়, এইচআরটি নারীর স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি তিনগুণ বৃদ্ধি করে। তবে গত বছর বিশেষজ্ঞরা আরো বেশি এইচআরটি দেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকদের।
এক গবেষণায় বলা হয়, ৫০ বছর ও এর কম-বেশি বসয়ী ১ হাজার নারীকে এইচআরটি চিকিৎসা দেওয়ার পর দেখা গেছে, এদের ২২ জন স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিতে পড়েন।
এখানে মেনোপজ সম্পর্কে কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা সম্পর্কে জেনে নিন।
১. মেনোপজ ঘটে ৫০-এর পর : মেনোপজ শুরু গড় বয়স ৫১ বছর। অধিকাংশ নারী ৪৫-৫৫ বছর বয়সের মধ্যে মেনোপজে উপনীত হন। তবে ৪০-এর পরই নারীদের এ বিষয়ে মানসিক প্রস্তুতি রাখতে হবে বলে পরামর্শ দেন ড. শ্যাচেল। অনেকের সময়ের আগেই মেনোপজ হতে পারে।
শ্যাচেল জানান, নারীদের মধ্যে মেনোপজ নিয়ে নানা ভুল ধারণা কাজ করে। এ বিষয়ে তাদের তথ্য জেনে রাখা ভালো। তবে একটা বিষয় সব নারীর মাথায় রাখা উচিত। তা হলো, মেনোপজঘটিত যেকোনো সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এ সময় দেহে অয়েস্ট্রোজেন হরমোনের অভাবে মারাত্মক অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। এ সমস্যাকে বলে অয়েস্ট্রোপরোসিস।
২. ত্বকে লালচে দাগ ওঠে : মেনোপজের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো ত্বকে লালচে দাগ ওঠা। রাতে ঘামও হতে পারে। কিন্তু এটা অবধারিত লক্ষণ নয়। অনেক নারীর এমন নাও হতে পারে। অনেকের মন-মেজাজ বদলে যায়। অনেকে দেহের প্রত্যেক সংযোগস্থলে ব্যথা অনুভব করেন।
৩. যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে আসে : অনেক ক্ষেত্রে এটা সত্য ঘটনা। নারীদের যৌনতার প্রতি আগ্রহ কমে আসে। সবাই জানেন যে দেহে অয়েস্ট্রোজেন বা টেসটোস্টেরনের মাত্রা হ্রাসের কারণে এমনটা ঘটে। কিন্তু এটাই একমাত্র কারণ নয়। যোনিপথে শুষ্ককার কারণেও এমন ঘটতে পারে। আবার যৌনতা অনেক নারীর কাছে যন্ত্রণাদায়ক হয়ে ওঠে। ফলে আগ্রহ কমে আসে।
৪. লক্ষণগুলো সবই শারীরিক : লালচে দাগ, যোনিপথে শুষ্কতা বা মাথাব্যথা ইত্যাদি দৈহিক লক্ষণ আকারে প্রকাশ পায়। কিন্তু সব লক্ষণ শারীরিক নয়। মেজাজ বদলে যাওয়া, বিষণ্ণতা, দুশ্চিন্তা ইত্যাদি অদেখা লক্ষণ রয়েছে। শ্যাচেল এ ধরনের লক্ষণ অসংখ্য নারীর মধ্যে দেখেছেন।
৫. মেনোপজের আগে পিরিয়ড কমে আসে : সব সময় এটা ঠিক নয়। মেনোপজের আগ দিয়ে পিরিয়ড কমে আসতে থাকে এবং একসময় থেমে যায়। কিন্তু অনেকের আবার আরো বেশি বাড়ে এবং তা কষ্টদায়ক হয়। অনেক নারীর মেনোপজ আসে মারাত্মক পিরিয়ডের মাধ্যমে।
৬. মেনোপজ কয়েক বছর থাকে : সব সময় ঠিক নয়। কিছু নারীর পিরিয়ড হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় কোনো লক্ষণ ছাড়াই। আবার অনেকের মেনোপজের প্রাথমিক স্তরেই থাকেন ১০ বছর। তবে গড়ে ৪ বছর পর্যন্ত মেনোপজ থাকে। বলা হয়ে থাকে, মেনোপজ শেষ হয় তখনই যখন কোনো নারীর টানা ১২ মাস পর্যন্ত কোনো পিরিয়ড হয় না।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল