আইএস হটিয়ে জারাব্লুসের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সিরীয় বিদ্রোহীরা

বিডি নিউজ ৬৪: তুর্কি সেনাবাহিনী ও মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার সহায়তায় কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহর জারাব্লুসের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে সিরীয় বিদ্রোহীরা দাবি করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে।
বুধবার তুর্কি সেনাবাহিনীর ট্যাঙ্ক এবং হাজার হাজার সিরীয় বিদ্রোহী দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর দখলে থাকা তুরস্কের সীমান্তবর্তী সিরীয় শহর জারাব্লুসের কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। স্থল অভিযানের সহায়তায় ছিল মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের যুদ্ধবিমান। মাত্র কয়েক ঘন্টার অভিযানেই শহরটি আইএস-এর কাছ থেকে মুক্ত হয় বলে জানা গেছে।
সিরীয় বিদ্রোহী সংগঠন ফ্রি সিরিয়ান আর্মি-র এক কমান্ডার দাবি করেছেন, ‘এখন জারাব্লুসকে স্বাধীন বলে মনে করা যেতে পারে।’ অপর এক বিদ্রোহী কমান্ডার জানান, জারাব্লুসের আইএস সদস্যরা দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় আল-বাব শহরের দিকে পালিয়ে গেছে।
বিদ্রোহীরা জানিয়েছেন, তুরস্ক সীমান্ত থেকে অভিযান শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিদ্রোহীরা কয়েকটি গ্রাম দখল করে নেয়। পরে শহরটিকে ঘিরে থাকা পাহাড়গুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কয়েক  ঘন্টার মধ্যেই জারাব্লুস থেকে আইএস জঙ্গিরা পালাতে শুরু করে।
উল্লেখ্য, গত দুই বছর ধরে জারাব্লুস আইএস-এর দখলে ছিল।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন, তুর্কি অভিযান কেবল আইএস জঙ্গিদের জন্য নয়। তুর্কি বাহিনী একই সঙ্গে কুর্দি যোদ্ধাদের উপর হামলা চালাবে।
উল্লেখ্য, সোমবার সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে কুর্দিদের পিপল’স প্রটেকশন ইউনিট (ওয়াইপিজি) ও ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর বিরুদ্ধে পৃথক সামরিক অভিযান শুরু করেছে তুরস্ক।  তুর্কি সেনাবাহিনী সীমান্ত শহর জারাব্লুসে গোলাবর্ষণ করে। একই সঙ্গে মানবিজের কাছে কুর্দি ওয়াইপিজি-র অবস্থান লক্ষ্য করেও হামলা চালায় তুরস্ক। এক তুর্কি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ওয়াইপিজে-কে লক্ষ্য করে ২০টি হামলা চালানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কুর্দি ওয়াইপিজি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে রেখেছে তুরস্ক। ওয়াইপিজি-কে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)-এর একটি শাখা বলে মনে করে তারা। ১৯৮০-র দশক থেকে কুর্দিদের স্বাধীনতার জন্য তুরস্ক সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম করে আসছে পিকেকে।
কুর্দি যোদ্ধারা আইএস-বিরোধী লড়াইয়ে মার্কিন মিত্রশক্তি। একইভাবে তুরস্কও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র। কিন্তু কুর্দিদের প্রতি মার্কিন সমর্থনকে বরাবরই নেতিবাচকভাবে দেখে আসছে তুরস্ক।
এদিকে, আসাদ সরকার সিরিয়ার অভ্যন্তরে তুর্কি অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে। তুর্কি অভিযানকে ‘আগ্রাসন’ এবং ‘সার্বভৌমত্ব’ লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। ২০১২ সাল থেকে ওই অঞ্চলে আসাদ সরকারের নিয়ন্ত্রণ খুবই সীমিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *