চট্টগ্রামে সার কারখানাটিতে দুশো টন তরল অ্যামোনিয়া ছিলো

বিডি নিউজ ৬৪: বাংলাদেশে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একটি সার কারখানার অ্যামোনিয়া সংরক্ষণের ট্যাংক বিস্ফোরণে আশপাশে বিশাল এলাকা জুড়ে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে বহু মানুষ রাতে অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেখানকার জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন জানিয়েছেন রাত তিনটে পর্যন্ত ৫৫ জনকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন রাত দশটার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে। মানুষজন মূলত শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসছিলেন।

ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণফুলী নদীর পারে ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট নামের একটি সার কারখানায়। ঘটনাস্থল থেকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিদর্শক দোলন আচার্জি জানিয়েছেন সার কারখানাটির অ্যামোনিয়া সংরক্ষণের বিশাল ট্যাংকটিতে দুশো টনের মতো তরল অ্যামোনিয়া সংরক্ষিত ছিলো। বিস্ফোরণে তা গ্যাস আকারে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। কারখানার ২৫ জন কর্মচারীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান। ততক্ষণে মধ্যে গ্যাস খুব দ্রুতই ছড়িয়ে পড়তে থাকে আশপাশের এলাকাগুলোতে।

নদীর অপর পারে পতেঙ্গা ও হালিশহর পর্যন্ত এই গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে বলে জানান জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন। মাইকিং করে আশপাশের এলাকার মানুষজনকে সরে যেতে বলা হয়। এক পর্যায়ে মানুষজনের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়া তরল অ্যামোনিয়ায় পানি দিয়ে গ্যাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর চেষ্টা হয়েছে রাতভর। এখন তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে বলে জানিয়েছে মি উদ্দিন।

তবে পানির সাথে তরল অ্যামোনিয়া আশপাশের নালায় মিশে গেছে বলে জানিয়েছেন মি আচার্জি। যাতে কাছেই থাকা কর্ণফুলী নদীতেও তা মিশে যাওয়ার আশংকা তৈরি হয়েছে। সেখানে কাজ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসেরও বেশ কজন অসুস্থ হয়ে পরেন। কারখানাটিতে এই বিস্ফোরণ কিভাবে ঘটেছে সে বিষয়ে রাতে বিস্তারিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি তদন্তে রাতেই তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক। সাত দিনের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সকাল দশটায় তাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *