পার্বতীপুরে গো-খাদ্যের দাম বাড়ছেই, নেই বাজার মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা

বিডি নিউজ ৬৪: দিনাজপুরের পার্বতীপুরে গো-খাদ্যের দাম দিনদিন বেড়েই চলছে। বাজার মনিটরিংয়ের কোন ব্যবস্থা না থাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ইচ্ছেমত গো-খাদ্যের দাম বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ খামারি ও গবাদিপশু মালিকদের। বর্তমানে পার্বতীপুরের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে দিনদিন যেভাবে গবাদিপশু পালনের হার বাড়ছে, তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গোখাদ্যের দাম।

পার্বতীপুর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৪-১৫ সালে উপজেলায় গরুর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬০ হাজার ৩৫৯। ২০১৫-১৬ সালে তা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫টি। ২০১৪-১৫ সালে ছাগলের সংখ্যা ছিল ৮০ হাজার ১৬৫টি। চলতি বছর তা দাঁড়িয়েছে ৮৩ হাজার ৬১৫টি। ২০১৪-১৫ সালে মোষের সংখ্যা ছিল ১৬৫। ২০১৬ সালের মোষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৫টিতে। তবে গরু পালনের হার দিনদিন বাড়ছে উপজেলায়।

এ বিষয়ে গো-খাদ্য ব্যবসায়ী শাহজাহান আলী জানান, সাম্প্রতিক সময়ে পশুখাদ্যের দাম বাড়ছে। এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের কোন হাত নেই। কয়েক বছর আগেও প্রতি বস্তা গমের ভুসি বিক্রি হতো ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি খৈল ২৪, প্রতি কেজি ভুট্টা ১৫, প্রতি বস্তা ফিড ৬৫০ থেকে ৭০০ এবং প্রতি কেজি নালি গুড় ১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিন্তু চলতি বছর প্রতি বস্তা ভুসি ১৫৫০, প্রতি বস্তা ফিড ১১৫০, মুসুরের দানা প্রতি কেজি ৩৪, ভূসির কেজি ৩১, খেসারির ভূসি প্রতি কেজি ৩৬, ধানের গুড়া প্রতি কেজি ১২, প্রতি কেজি খৈল ৪০, প্রতি কেজি ভুট্টা ২২, চালের খুদ প্রতি কেজি ২০, বুটের ভূসি প্রতি কেজি ৫০ এবং প্রতি কেজি নালি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে মন্মথপুর ইউনিয়নের কৈবত্যপাড়ার পারিবারিক খামারী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দেবেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, আমি ১৫টি গরু লালন-পালন করছি। বর্তমানে কোন জমিই অনাবাদী পড়ে না থাকায় গো-খাদ্যের জন্য খড় ও বাজারের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু বাজারে গো-খাদ্যের দিনের পর দিন বাড়তে থাকায় গরু পালন প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

এ ব্যাপারে পার্বতীপুর প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ ইদ্রিস আলী জানান, গত বছরের তুলনায় এবার খামারগুলোয় গরু পালনের পরিমাণ বেড়েছে। সরকারিভাবে গো-খাদ্য ক্রয়ে কোনো সহযোগিতা করা হয় না। তবে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সেবা প্রদান করা হয়। দেশী গরুর সংখ্যা কমলেও উন্নত জাতের গাভী ও ষাঁড়ের সংখ্যা বেড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *