বিডি নিউজ ৬৪: মা নাদিরাহ মুহাম্মদ কখনো চাননি তার মেয়ে ৪০০ মিটার হার্ডলসে দৌড়াক। ‘বাচ্চাটা’ পড়ে গিয়ে ব্যথা পাবে তো! ৭ বছর বয়সে ডালিয়াহ মুহাম্মদ যখন দৌড়াতে শুরু করেন তখন মমতাময়ী মায়ের ছিল এই দুর্ভাবনা। কিন্তু কে জানতো সেই ৪০০ মিটার হার্ডলসে মুসলিম ঘরে জন্ম নেওয়া মুহাম্মদ একদিন গড়বেন ইতিহাস! অলিম্পিকে এই ইভেন্টে আমেরিকানদের ইতিহাসে ‘প্রথম’ হওয়ার রেকর্ডটাই যে মুহাম্মদ গড়ে দিলেন। শুক্রবার ৪০০ মিটার হার্ডলসের সোনা জিতেছেন মুহাম্মদ। এবং তা প্রথম আমেরিকান হিসেবে।
২৬ বছরের মুহাম্মদের বাবা আসকিয়া মুহাম্মদ ও মা নাদিরাহ রিওতে আছেন মেয়ের জন্য। অলিম্পিকের আগে তারা বলেছিলেন, প্রতিভা ও শৃঙ্খরার পাশাপাশি মুসলিম ধর্ম বিশ্বাস মুহাম্মদের সাফল্যের পেছনের কারণ। এই বছর আমেরিকান ট্রায়ালে ৪০০ মিটার হার্ডলসে গত তিন বছরের মধ্যে বিশ্ব সেরা টাইমিং গড়েই মুহাম্মদ পা রাখেন রিওতে। তার ওপর আস্থা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। কিন্তু ভয় ছিল অলিম্পিকের অনভিজ্ঞতার কারণে। সব ভয় উড়িয়ে দিয়ে ঝড় তুলেই ইতিহাসের পাতায় ঢুকে পড়লেন মুহাম্মদ।
৫৩.১৩ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে সোনা জিতেছেন মুহাম্মদ। ডেনমার্কের সারা স্কট পিটারসেন ৫৩.৫৫ সেকেন্ডে পেয়েছেন রুপা। ডালিয়াহর টিমমেট অ্যাশলে স্পেন্সার ব্রোঞ্জ জিতেছে ৫৩.৭২ সেকেন্ডে।
১৯৮৪ সাল থেকে অলিম্পিকে মেয়েদের ৪০০ মিটার হার্ডলস। ৫বার এই ইভেন্টে আমেরিকার রুপা জিতেছে। কিন্তু সোনাই জিতেছে প্রতিবার। সেই দাবি পূরণ করার পর মুহাম্মদের আনন্দটাও দারুণ, “এই জয়ের বাস্তবতা স্বপ্নের চেয়েও ভালো। নামের পাশে অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন। প্রথম আমেরিকান হিসেবে জেতায় তাতে যোগ হয়েছে বাড়তি মাত্রা।” প্রসঙ্গত, রিওর আগে বিশ্ব মঞ্চে আর একবারই মাত্র প্রতিযোগিতা করেছেন মুহাম্মদ। ২০১৩ গ্লাসগো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে জিতেছিলেন রুপা। কিন্তু দেশের পতাকা হাতে অলিম্পিক অভিষেকেই রেকর্ড বইয়ে অমরত্ব নিশ্চিত করে ফেলেছেন মুহাম্মদ।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল