ট্রাম্পের বক্তৃতার কারণে মুসলিম বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে : নিউ ইয়র্কের মেয়র

বিডি নিউজ ৬৪: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের মেয়র বিল দে ব্লাসিও বলেন, মুসলমানরা ধর্মান্ধতার লক্ষ্যবস্তু। স্থানীয় সময় গতকাল রবিবার এক বিবৃতিতে মেয়র এ কথা বলেন। গত শনিবার বাংলাদেশি এক ইমাম ও তাঁর সহকারী বন্দুকধারীর হাতে নিহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এমন বিবৃতি দিলেন। বিবিসি জানায়, স্থানীয় সময় গত শনিবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে নিউ ইয়র্কের ওজন পার্কের কুইন্স এলাকার অংশে পেছন থেকে গুলি করে বাংলাদেশি ইমাম মাওলানা আলাউদ্দিন আখঞ্জি (৫৫) ও তাঁর সহকারী তারা মিয়াকে (৬৪) হত্যা করা হয়। জোহরের নামাজ শেষে কুইন্সের আল ফুরকান জামে মসজিদ থেকে ফিরছিলেন তাঁরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনাস্থল থেকে এক ব্যক্তিকে বন্দুক হাতে পালিয়ে যেতে দেখেন। ইমাম আলাউদ্দিন ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তারা মিয়ার মৃত্যু হয়।

গতকালের বিবৃতিতে নিউ ইয়র্কের মেয়র বলেন, মাওলানা আখঞ্জি ও তারা মিয়াকে হত্যার পেছনের কারণ সম্পর্কে আমরা এখনও জানি না। আমরা জানি যে মুসলমান কমিউনিটি ধর্মান্ধতার ধারাবাহিক লক্ষ্যবস্তু। বিক্ষোভকারী অনেকে একে বিদ্বেষমূলক হামলা বলে দাবি করেন। আর এমন হামলার জন্য রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের উসকানিমূলক বক্তব্যকে দায়ী করেন। স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখনও এ হত্যাকাণ্ডের কোনো কারণ জানাতে পারেনি তারা। আর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাসের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে বর্ণনা নিয়ে হত্যাকারীর স্কেচ তৈরি করেছে পুলিশ। ওই স্কেচ-সংবলিত পোস্টার নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় সাঁটানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনওয়াই ডেইলি নিউজ বাংলাদেশি ইমাম ও তাঁর সহকারী হত্যার ভিডিও প্রকাশ করেছে। সিটিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দীর্ঘ সাদা পোশাক পরিহিত বাংলাদেশি ইমাম ও তাঁর সহকারী হাঁটছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি তাঁদের পেছনে ধেয়ে আসে এবং দুজনেরই মাথায় গুলি করে। পরে দ্রুত পালিয়ে যায় ওই ব্যক্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *