বিডি নিউজ ৬৪: ঢাকার অদূরে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের একটি তৈরি পোশাক কারখানা স্থানান্তর নিয়ে জটিলতায় বেতন ও ঈদ বোনাস হতে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেছে ওই কারখানটির শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারখানাটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে শিল্পাঞ্চলের বলিভদ্র বাজার এলাকার আনজির এ্যাপারেলস (ইউনিট-২) নামের তৈরি পোশাক কারখানায় এ শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।
শ্রমিকরা জানায়, কয়েকদিন আগে হঠাৎ করেই মালিকপক্ষ তাদের কারখানার সোয়েটার তৈরির কাজ বন্ধ করে দেয়। এরপর কারখানাটি স্থানান্তরের ঘোষণা দেয় মালিকপক্ষ। এতে ঈদকে সামনে রেখে প্রতি পিস সোয়েটারের মজুরি নির্ধারিত থাকায় তাদের আয় কমে গেছে। একই সঙ্গে কারখানা স্থানান্তরের ঘোষণায় ঈদ বোনাস ও বেতন না পাওয়ার অনিশ্চয়তায় ভুগছেন কারখানার প্রায় ৮০০ শ্রমিক।
শ্রমিকদের দাবি, কারখানা স্থানান্তর করলে তাদের সমূদয় পওনা বুঝিয়ে দিতে হবে। এ দাবি নিয়ে শ্রমিকরা শনিবার কর্মবিরতি শুরু করলে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে দুপুরে কারখানাটি ছুটি দিয়ে দেয়। পরে রাতে মালিকপক্ষ কিছু মেশিনপত্র স্থানান্তর করেছেন বলে শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন।
তবে কারখানাটির সহ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা আরিফ বলেন, বায়াররা সম্প্রতি তাদের অর্ডার বাতিল করেছে। একই সাথে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কারখানাটি অনত্র স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাই শ্রমিকদের কাজ না থাকাটা স্বাভাবিক বলে জানান তিনি। তবে তারা যা-ই করবেন তা শ্রমিকদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে করবেন বলে জানান।
শ্রমিকদের দাবির ব্যাপারে বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন জানান, শ্রম আইনের ধারা মোতাবেক স্থানান্তরিত কারখানার দূরত্ব আট কিলোমিটারের বেশি হলে মালিকপক্ষকে শ্রমিকদের যাবতীয় পাওনাদি পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু আনজির নামের এ কারখানাটি ইতোমধ্যে জিরাবোতে স্থানান্তর করা হয়েছে। যার দূরত্ব বলিভদ্র বাজার থেকে আট কিলোমিটারের বেশি। সে ক্ষেত্রে মালিকপক্ষ আইন না মেনে শ্রমিকদের প্রাপ্য না বুঝিয়ে দিয়ে রাতারাতি কারখানার যন্ত্রপাতি সরিয়ে নিচ্ছে। যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
শিল্প পুলিশ-১ এর পরিচালক পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কর্তৃপক্ষ কারখানাটি তাদের নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর করবেন। মালিকপক্ষ ইচ্ছা করলে তা করতেই পারেন। তবে শ্রমিকদের দেনা-পাওনা মিটিয়েই যা করার তা করতে হবে। এ ব্যাপারে মালিক পক্ষকে তিনি চাপ দিয়েছেন বলে কালের কন্ঠকে জানান। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দুপুরের পর কর্তৃপক্ষ কারখানাটি ছুটি ঘোষণা করেছে। এছাড়া যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানাটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল