বিডি নিউজ ৬৪: হলিউড অভিনেত্রী জো সালদানা ভুগছেন হাশিমোতোস থায়রোইডিটিস রোগে ভুগছেন। এটা এমন এক অবস্থা যখন তার দেহের রোগ প্রতিরোধীব্যবস্থা নিজের থায়রয়েড গ্রন্থিকে আক্রমণ করছে। এতে চরম পেশি ব্যথা দেখা দেয় এবং অবসাদ ভর করে।
এক সাক্ষাৎকারে সালদানা জানান, এ অবস্থায় দেহের বিষাক্ত উপাদান বের করে দিতে যথেষ্ট শক্তি পায় না দেহ। দেহে এমন অ্যান্টিবডি তৈরি হয় যা সেই দেহের গ্ল্যান্ডেই আক্রমণ করে।
হাশিমোতোস থায়রোইডিটিস কি? : ডায়াবেটোলজিস্ট ড. প্রদীপ জানান, হাশিমোতোস থায়রোইডিটিস রোগে রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থা প্রজাপতি আকৃতির থায়রয়েড গ্রন্থিকে আক্রমণ করে। এ গ্রন্থিতে প্রদাহ দেখা দেয়। অতিরিক্ত থায়রয়েড হরমোনের ক্ষরণ ঘটে। সময়ের সঙ্গে আবার প্রদাহ যথেষ্ট হরমোর ক্ষরণে বাধা প্রদান করে। এ রোগটি কয়েক বছর ধরে বেড়ে চলে এবং গ্রন্থিতে ক্রনিক ক্ষতি করে। তবে এটা নিরাময়যোগ্য বলে জানান ড. পারুল আর শেথ।
লক্ষণ ও পরীক্ষা : ড. শেথ জানান, এটি ধীরে ধীরে পাকা অবস্থান নেয় দেহে। তাই স্পষ্ট ও বিশেষ লক্ষণ প্রকাশ পায় না। তবে অবসাদ, শুষ্ক ত্বক, ফোলা চেহারা, খসখসে কণ্ঠ, পেশিতে ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ঋতুকালীন অতিরিক্ত রক্ত, ঠাণ্ডায় অতিরিক্ত স্পর্শকাতর হয়ে ওঠা এবং বিষণ্নতা ভর করে। অ্যান্টিবডি পরীক্ষা বা অন্য কোনো পরীক্ষায় সমস্যা চিহ্নিত হতে পারে। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে স্ববিরোধী অ্যান্টিবডির উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়।
এ ছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিত ওজন বৃদ্ধি, আবেগপ্রবণ হয় পড়া, কাঁধ ও হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথা হতে পারে।
চিকিৎসা : সাধারণত বিশেষজ্ঞের পর্যবেক্ষণে থাকত হয়। চিকিৎসক কিছু ওষুধও দিতে পারেন। সাধারণত সিনথেটিক থায়রয়েড হরমোন লেভোথাইরোক্সাইন নিতে বলা হয়। এটি সারা জীবন ধরে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। প্রতি ৬ বা ১২ মাস পর টিএসএইচ পরীক্ষা করে গ্রহণ মাত্রা বদলানো লাগতে পারে। হরমোনের অভাবের কোনো লক্ষণ এতে প্রকাশ পায় না। চিকিৎসকরা সাধারণত পর্যবেক্ষণে সময় দিয়ে থাকেন।
ঝুঁকিতে নারীরা : হাশিমোতোস থায়রোইডিটিস পুরুষদের চেয়ে নারীদের ১০-১৫ গুন বেশি দেখা যায়। ৩০-৫০ বছর বয়সীদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এটি অটোইমিউন ডিসঅর্ডার। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, একে প্রতিরোধের কোনো সুস্পষ্ট উপায়ের কথা জানা নেই বিশেষজ্ঞদের। যত দ্রুত ধরা পড়ে এবং চিকিৎসা গ্রহণ করা যায় ততই ভালো।
bdnews64 বাংলাভাষায় প্রকাশিত দেশের সর্ববৃহৎ সংবাদ পোর্টাল